দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় ৫৮ জন কৃষক শুরু করেছেন সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ। প্রথম পর্যায়ে ৫০ একর জমি ব্যবহার করছেন তারা।
কৃষি বিভাগ বলছে, বীজতলা থেকে শুরু করে ধান মাড়াই পর্যন্ত সব কিছুই করা হবে যন্ত্রে। কম খরচে কৃষক অধিক ধান উৎপাদন করতে পারবেন। পাওয়া যাবে ধানের অধিক ফলন।
প্রচলিত পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ না করে প্লাস্টিকের ট্রে-তে আধুনিক যন্ত্রের জন্য লাগানো হয় ধানের বীজ। ২০-২৫ দিনের মধ্যে চারা মাঠে লাগানোর উপযোগী হয়।
রাসায়নিক সারের পরিবর্তে সামান্য জৈব সারের ব্যবহারে খরচ কমছে। প্লাস্টিক ট্রে’তে বীজতলা করায় ধানের চারা উত্তোলন, রোপণ, ফসল মাড়াই ও সবই একযোগে করা যাবে।
উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ ব্যবহার করায় ১৪০ থেকে ১৪৫ দিনের মধ্যে ফসল তোলা সম্ভব। আর এই প্রক্রিয়াকেই বলা হচ্ছে সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষ।
সমলয় চাষ পদ্ধতিতে বীজতলা ও ধানের চারা রোপণে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক কৃষি যন্ত্র। ফলে কৃষিতে খুলছে এক নতুন দুয়ার। যার ছোঁয়া লেগেছে উত্তরের দিনাজপুরেও।
জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া ইউনিয়নের উদয় সোকোয়া গ্রামে ৫৮ জন কৃষক ৫০ একর জমিতে করেছেন সমলয় পদ্ধতিতে বোরো জাতের উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ।
সমলয় পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সাহায্যে ধানের চারা রোপণ। বীজ বপন থেকে শুরু করে ধান বস্তাবন্দি পর্যন্ত মেশিনের মাধ্যমে শেষ করা হবে।
কৃষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করে শ্রমিক সংকট দূর হচ্ছে। সে সাথে কমছে খরচও। আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষিকাজ করে অল্প সময়ে ও সাশ্রয়ের ফলে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।
মেশিনের মাধ্যমে শুধু ধান রোপণেই খরচ কমবে দুই থেকে তিন হাজার টাকা। পাশাপাশি এক বিঘা জমিতে ধান রোপণ করতে সময় লাগবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট।
সনাতন পদ্ধতিতে ধান আবাদ করে বিঘা প্রতি কৃষকদের দুই হাজার টাকা লাভ হয়। তবে মেশিন ব্যবহার করে কৃষক প্রতি বিঘায় সাত হাজার টাকারও বেশি লাভবান হবেন।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে গ্রেপ্তার এক
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষক পর্যায়ে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বোরো ধানের সমলয়ে চাষাবাদের প্রকল্পটি চালু করা হয়েছে।
আর নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে কৃষিকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় পেশায় পরিণত করতে এই পদ্ধতিতে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার।
একাত্তর/এসজে
