চুয়াডাঙ্গায় টানা ১৩ দিন ধরে মাঝারি থেকে তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। জেলায় বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।
তীব্র তাপদাহে চুয়াডাঙ্গার জনজীবনসহ প্রাণীকুল অতিষ্ঠ। প্রচণ্ড গরমে পুড়ছে ফসলের মাঠ। শুকিয়ে যাচ্ছে পুকুর, জলাশয় ও খাল-বিলের পানি। সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে।
এ জেলায় একটানা ১৩ দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, সামনের কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় বরাবরই বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করে থাকে। তবে, আবহাওয়ার পরিবর্তন সব থেকে বেশী শুরু হয়েছে ২০০২ সাল থেকে। ২০১৪ সালে এ জেলায় ও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গা ১ম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ভৌগোলিক কারণে চুয়াডাঙ্গায় শীতের সময় তীব্র শীত ও গরমের সময় তীব্র গরম পড়ে। এ জেলায় দীর্ঘদিন যাবৎ বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে আশেপাশের জেলাগুলোতে মাঝারি ও তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এ অঞ্চলে ক্রমেই উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূর্যের অতি কাছে দক্ষিণ গোলার্ধে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় এবং কর্কট ক্রান্তি রেখা চুয়াডাঙ্গা জেলার উপর দিয়ে যাওয়ায় এ জেলায় আবহাওয়ার এ চরম বৈপরীত্য দেখা যায়। প্রতি বছর এপ্রিল ও মার্চ মাসে এ জেলায় তীব্র গরম শুরু হয়।
তীব্র এই তাপদাহে চুয়াডাঙ্গার খেটে খাওয়া মানুষ ও প্রাণীকুল নিরুপায়। জেলার স্বাভাবিক জীবনপ্রবাহ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তারপরও তাপদাহ উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে লোকজন বাইরে বের হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কাঠফাটা রোদ আর দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন
তাপদাহের কারণে জেলা সদর হাসপাতালসহ জেলার সকল হাসপাতালে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শত শত শিশু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এই বৈরি আবহাওয়ায় শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন।
একাত্তর/এসজে
