ঘূর্ণিঝড় মোখা লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে
প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনকে। বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় এক হাজার
কাঁচা ঘরবাড়ি, কটেজ।
ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায়, বড় ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গিয়ে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেন তারা।
নতুন করে তাদের ঘরবাড়ি তৈরি করতে দ্রত সরকারি-বেসরকারি সহায়তার দাবিও জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন দ্বীপের ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্তরা।
জাকির হোসেন, সেন্টমার্টিনে একটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজ আছে তার। তিন মেয়ের আর বাবা মায়ের এই ছোট সংসারে স্বাচ্ছন্দের সবকিছুই ছিল।
টিভি, ফ্রিজ, খাট, আলমারি সবকিছু। ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে সেগুলো সব কিছুই একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। কয়েক ঘণ্টার ঝড়ে এখন তিনি একেবারে নিঃস্ব।
জাকির হোসেনের চেয়েও নিঃস্ব রাজু, বিভিন্ন জায়গায় জোগালির কাজ করতেন তিনি। জীবন যুদ্ধে অনেক কষ্টে যতটুকু সম্বল করেছিলেন তার সবকিছুই এখন আবর্জনায় পরিণত হয়েছে। ছোট মেয়েকে নিয়ে ভাঙ্গা ঘর আবার দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
মনোয়ারা বেগমের দুই সন্তান ঘরে ছিলেন না, স্বামীও দূরে। তাই, ঝড়ের রাতে একাই এই ঘরের মধ্যে ছিলেন। একেবারে জীবন বাজি রেখে কেমন ছিলো সেই অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সেন্টমার্টিনে এরকম গল্প এখন প্রতিটি ওয়ার্ডে গেলেই পাওয়া যাবে। এলাকাবাসী বলছেন, ১৯৯১ ও ১৯৯৪ সালের পর এমন ঘূর্ণিঝড় তারা আগে কখনো দেখেননি। তবে ঝড়ের সাথে জলোচ্ছ্বাস না হওয়ায় তারা বেঁচে গেছেন।
সরকারি হিসেবে কাঁচা ঘরবাড়ি সেন্টমার্টিনে আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজারের মতো। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতের কাজ শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।
একাত্তর/আরবিএস
