নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে খুলনার পাঁচ মেয়র প্রার্থী বললেন, জয়-পরাজয়ের আগে মূল চ্যালেঞ্জ বিএনপিবিহীন ভোটে সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
নৌকা, হাতপাখা ও গোলাপফুল প্রতীকের মেয়র প্রার্থীরা ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট। তবে, লাঙ্গলের প্রার্থী আছেন শংকায়। তবে এনিয়ে কোনো অভিযোগও জমা দেননি তিনি।
প্রায় পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ভোটার; বিস্তৃত ৩১টি ওয়ার্ড। প্রচারের নির্ধারিত সময়ে সব ভোটারের কাছে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। সেই অসম্ভবের পেছনেই ছুটছেন খুলনা সিটির প্রার্থীরা।
খুলনা সিটি নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে, শনিবার দিনভর তাই মেয়র প্রার্থীদের বিরামহীন ছুটে চলা। অলি-গলি থেকে শুরু করে বিপণীবিতান, কোনো কিছুই বাদ পড়েনি।

নৌকার মেয়র প্রার্থী নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শেষদিনের প্রচার শুরু করেন। বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে বলেন, কেন্দ্রে ভোটারদের সন্তোষজনক উপস্থিতি নিশ্চিতের চেষ্টা হচ্ছে।
তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বতঃস্ফূর্ততা আছে। মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে। মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার তাই করা হচ্ছে।
সকালে খুলনা প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
প্রচারের শেষদিনে ভোটের পরিবেশ নিয়ে অসন্তুষ্টি জানান, জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু। তার অভিযোগ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।
তার অভিযোগ, নির্বাচন প্রভাবিত করতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক কালো টাকা উড়াচ্ছেন। তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে জাতীয় পার্টির কর্মীদের ওপর হামলা করেছেন।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যদি প্রশাসন ঠিক থাকে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন বানচাল করার চক্রান্ত চলছে। পুলিশ, প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে গণমাধ্যম ও পথসভার বক্তব্যে বললেও কখনোই নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে জানাননি জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাকের পার্টির মেয়র প্রার্থী বললেন, ভোটের পরিবেশ ভালো। তবে, কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শংকা আছে তাদের।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আউয়ালের আশা ৬০ শতাংশ ভোট পড়বে এই নির্বাচনে। বিএনপির কথায় কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবে না, এমনটা হবে না।
আগামী ১২ জুন খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সিটির ২৮৯টি কেন্দ্রে ইভিএমে অনুষ্ঠিত হবে। কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন।
আরও পড়ুন: বরিশাল সিটিতে উৎসবের সঙ্গে অভিযোগের ফুলঝুরি
তারা হলেন- তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), শফিকুল ইসলাম (লাঙ্গল), আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা), শফিকুর রহমান মুশফিক (দেয়াল ঘড়ি) ও সাব্বির হোসেন (গোলাপ ফুল)।
একাত্তর/এসি
