চুয়াডাঙ্গার করোনা পরিস্থিতি দিনদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন করোনার ছোঁবলে ৭/৮ জনের প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন রোগীর আত্মীয়-স্বজন। অক্সিজেনের অভাবেও রোগীর মৃত্যু হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক।
গত ২৪ ঘন্টায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা উপসর্গে। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১৪০ জন এবং শনাক্তের হার ৩৩.৭৩ শতাংশ। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যু ১১৫ জন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপালের অনাবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডাঃ এ এস এম ফাতেহ আকরাম জানান, শনিবার (৩ জুলাই) সকাল থেকে রোববার (৪ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলা সদর হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই দিনে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো ৭ জনসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ জন এবং এদের মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
আরও পড়ুন: ফাঁকা রাস্তায় বিড়ালকে চাপা দিয়ে ভ্যান উল্টে নিহত এক
তিনি আরো বলেন, গতকাল ৪১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরো ১৪০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদরে ৩০ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২৮ জন, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৬ জন ও জীবননগর উপজেলায় ৪৬ জন।
জেলায় বর্তমানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৬৫৩ জন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদরে ১ হাজার ৫৭৭জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫৮৮ জন, দামুড়হুদা উপজেলায় ৮৪০ জন ও জীবননগর উপজেলায় ৬৪৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৩৪২ জন।
বর্তমানে জেলায় মোট রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৯৪ জন। এদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপালে চিকিৎসাধীন রেড জোনে ৭৫ জন, ইয়োলোজনে ২২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হোম আইসোলেশনে ৭৭৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, অক্সিজেন ও চিকিৎসকের সময়মত দেখভালের অভাবে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ করছেন স্বজনরা। চিকিৎসকরাও সদর হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। চিকিৎসাসেবা ওয়ার্ডগুলোতে চরম দূরাবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে করোনার চিকিৎসা ।
কর্তৃপক্ষের দাবী, প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও নার্স কম থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের চাহিদা মেটাতে পারছে না চিকিৎসকরা।
একাত্তর/এসজে
