কুমিল্লায় চৌদ্দগ্রামে গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তাওহীদা ইসলাম ইলমাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি মোহাম্মদ আলী বাপ্পিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ মামলায় একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার শিশু নিযার্তন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত আসামি মোহাম্মদ আলী বাপ্পি (২১) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী এপিপি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শিশু ইলমাকে ধর্ষণ করে হত্যা করে ডাকাতিয়া নদীতে মরদেহ গুম করে দণ্ডিত আসামি বাপ্পি।
তিনি আরও জানান, বাপ্পি ২০১৯ সালের ১৫মার্চ বিকেল সাড়ে ৩টায় কৌশলে শিশু ইলমাকে তেঁতুল খাওয়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে তার ঘরে গলা ও মুখে ওড়না পেঁচিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে। তার ঘর সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে মরদেহ ডুবিয়ে দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে বাপ্পি ও মিজান দু'জনকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নিযার্তন দমন আইনে ধর্ষণ করে হত্যাসহ মরদেহ গুম করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
২০২০ সালের ৮ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠন ও রাষ্ট্রপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক, শুনানি শেষে আসামি বাপ্পির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
এ রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান নিহতের বাবা। সেই সোথে খালাস পাওয়া আসামীর দণ্ডের জন্য উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী আতিকুল ইলমাম রায়ের কপি হাতে পেলে উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
তরুণীকে আড়াই মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ