বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নতুন করে আরও সাতটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর বাঘায় দুইটি, সাভার মডেল থানায় তিনটি ও রাজধানীর ডেমরা ও মোহাম্মদপুরের বছিলায় দুইটি মামলা হয়েছে।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহম্মেদ শামীম সরকার এবং ছাত্রদলের কর্মী জাহিদ হাসান পৃথকভাবে বাদী হয়ে বাঘা থানায় দুটো মামলা করেন। এসব মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৬৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ১২০ থেকে ১৮০ জনকে।
বাঘা থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভারে দুই শিক্ষার্থী ও এক গার্মেন্টসকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সাভার মডেল থানায় শেখ হাসিনাসহ এক হাজার ১৯ জনকে আসামি করে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।
সোমবার রাতে নিহতদের স্বজনরা বাদী হয়ে এই মামলাগুলো করেন। এর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুমের মা মোসাম্মৎ কুলসুম, সাভার টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী মিঠু ওরফে মারুফের বাবা শাহজাহান ইসলাম ও তৈরি পোশাককর্মী আল আমিন ইসলাম সেলিমের বাবা ওয়াজেদ আলী বাদী হয়ে মামলা করেন।
সাভার মডেল থানার ওসি আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, মামলাগুলোতে আসামির তালিকায় রয়েছেন -সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. তৌহিদ জং মুরাদ, সাবেক সংসদ সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম, সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল গনিসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম হত্যাকাণ্ডে ২১৯ জন, কলেজের শিক্ষার্থী মিঠু ওরফে মারুফ হত্যায় ৫৩১ জন ও পোশাককর্মী আল আমিন ইসলাম সেলিম হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২৬৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজধানীর ডেমরার সানারপাড়ে মিরাজ হোসেন ও মোহাম্মদপুরের বছিলায় বুড়িগঙ্গা ফিলিং স্টেশনের মেশিন অপারেটর মনসুর মিয়া নিহতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ১১৪ জনের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার মিরাজ হোসেনকে হত্যার অভিযোগে ৯২ জনকে আসামি করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল হোসেনের আদালতে মামলা করেন বাদী খোরশেদ আলম মিয়া। আদালত ডেমরা থানা পুলিশকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ মামলায় উল্লেখযোগ্য অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন–সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর-রশীদ।
অন্য মামলা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে দায়ের করা হয়েছে। ২২ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন মনসুর মিয়ার ভাই আয়নাল হক। আদালত এই অভিযোগটি মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের শুনানিতে যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনকে সহযোগিতার আশ্বাস
ইহরাম পরে পালানোর সময় দুই আওয়ামী লীগ নেতা আটক
সোনারগাঁয়ে শেখ হাসিনাসহ ১২২ জনের নামে হত্যা মামলা