নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ত্বকী হত্যা মামলার সাড়ে ১১ বছর পর তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তারদের ছয়দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ও গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জের আলাদা দুটি আদালত তিন আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করে। এর আগে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১।
তিন আসামি হলেন- নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকার শাফায়েত হোসেন ওরফে শাওন, শহরের কালীবাজার এলাকার মামুন মিয়া ও রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার কাজল হাওলাদার।
মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলীর আদালতে আসামি কাজল হাওলাদারকে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১১–এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। আদালত শুনানি শেষে ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল সোমবার মামুন মিয়া ও শাফায়েত হোসেনকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শামসুর রহমানের আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুর রশিদ গণমাধ্যমকে রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এর আগে ত্বকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসা তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। তাদের তিনজনকে আলাদা দুটি আদালতে সাতদিন করে রিমান্ডের আবেদন জানালে শুনানি শেষে আদালত ছয়দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে র্যাব-১১–এর মিডিয়া অফিসার সনদ বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ত্বকী হত্যা মামলা পুলিশ তদন্ত করলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব র্যাব-১১ কে দেওয়া হয়। ত্বকী হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত রোববার শহরের চাষাঢ়া এলাকা থেকে শাফায়েত হোসেন এবং রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে কাজল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। আর সোমবার শহরের কালীরবাজার এলাকা থেকে মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে আসামিরা র্যাব হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী আটক
সচিবালয়ে ডিসি পদপ্রত্যাশীদের হট্টগোল