গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক ও পাঁচজন স্টাফসহ মোট ১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তারা বেতন-ভাতা পান। অথচ এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া তিন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টিতে শতভাগ ফেল করেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৫ সালে এটি এমপিওভুক্ত হয়। ২০২৫ সালে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার অনুমতি পায়। ওই বছর ছয়জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া তিন শিক্ষার্থীই মানবিক বিভাগের।
গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শতভাগ ফেল করার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন জানান, এর আগে বিদ্যালয়টির ফলাফল কখনো এমন বিপর্যয় হয়নি। তিন শিক্ষার্থীই গণিতে ফেল করেছে। এর অন্যতম কারণ গণিত শিক্ষক ফারুক খালেক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ ছাড়া তার অনেক দেনা রয়েছে। বর্তমানে গণিতের ওই শিক্ষক একটি মামলায় কারাগারে আছেন।
এদিকে, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও এবার পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু তাদের কেউই পাস করেনি। ফলে বিদ্যালয়টিতেও শতভাগ ফেল করেছে।
গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, কেন ও কী কারণে বিদ্যালয় দুটিতে শতভাগ ফেল হয়েছে, তা জানতে প্রধান শিক্ষকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করা হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত কোনো বিদ্যালয় থেকে এমন ফলাফল আশা করা যায় না।
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ সবার মৃত্যু, পরিবারে রইলো না কেউ
সোনারগাঁয়ে তিন রেস্তোরাঁয় অভিযান, ছয় লাখ টাকা জরিমানা