মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে জনপ্রতি ১৫ হাজার টাকা করে আদায় করে প্রবেশপত্র না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল ও অফিস সহায়ক নুর আলমের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করেছেন তারা। যদিও উপজেলা প্রশাসন বলছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৬ সালের এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয় বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী। ফলে তারা আগামী এসএসসি পরিক্ষায় অংশ নিতে পারবে না বলে জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল এবং অফিস সহায়ক নুর আলম তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ সময় নির্ধারিত ফি -এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তারা প্রবেশপত্র পায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ফরম পূরণের নামে কয়েক লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলেও প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। পরে তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এবং সোমবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মাঠে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে।
শিক্ষার্থী শান্তা, সামিয়া, ইরানি বলেন, আমাদের কাছ থেকে সোহেল স্যারে ফরম ফিলাপের জন্য টাকা নিয়েছে, আমরা সেই ভাবেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু এখন জানতে পারলাম, আমাদের প্রবেশপত্র আসে নাই। আমাদের মাথায় হাত। আমরা এখন কী করবো। আমরা এর বিচার চাই।
অভিভাবকরা বলছেন, ছেলে-মেয়েরা হয়তো কয়েক বিষয়ে খারাপ করেছে এরপরেও পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয় স্কুল, কিন্তু এখন পরীক্ষা দিতে পারবে না তারা। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, সোহেল মোড়ল ও নুর আলমের বিচার হওয়া দরকার।
অভিযোগের বিষয়ে বিষয়ে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হয়নি সহকারী শিক্ষক সোহেল মোড়ল তবে বিষয়টি ভুল হয়েছে শিকার করে শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বোরহান খান বলেন, বিদ্যালয়ের দুইজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াদিয়া শাবাব জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এসএসসি পরীক্ষা শুরু মঙ্গলবার, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
কুয়াকাটায় অক্ষয় পুণ্য লাভের আশায় হাজারো পুণ্যার্থী