ভারতীয় বিনোদন জগতের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন- সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন বা শিল্পী সমিতিতে লেগেছে বিরাট আগুনে হাওয়া! সংগঠনের সভাপতি পুনম ধীলন এবং জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পদ্মিনী কোলহাপুরের বিরুদ্ধে ক্ষমতা কুক্ষিগত করা, সংবিধান লঙ্ঘন ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ তুলে একযোগে পদত্যাগ করেছেন কার্যকরী কমিটির নির্বাচিত আট জন সদস্য।
হেমন্ত পান্ডে, মুকেশ ঋষি, সাহিলা চড্ডা, হেতাল পারমার, পুনীত ইসার, বিন্দু দারা সিং, বিকাশ ভার্মা এবং দীপক পরাশর, বলিউডের এই পরিচিত মুখগুলো তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পদ ছেড়ে দিয়ে অবিলম্বে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

পদত্যাগকারী সদস্যরা এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পী সমিতির গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সংবিধানকে তোয়াক্কা না করে সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যৌথ আলোচনার বাইরে গিয়ে এককভাবে নেওয়া হচ্ছিল।
চিঠিতে পুনম ঢিলনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলা হয়, সভাপতি পুনম ধীলন ক্রমাগত একক সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিল্প সংস্থাকে নিজের এবং শিল্পী সমিতির অফিশিয়াল আইডি থেকে চিঠি পাঠিয়েছেন। কার্যকরী কমিটির অজান্তে ও অনুমোদন ছাড়াই তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বিচার বিভাগীয় সংস্থায় সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যা যৌথ জবাবদিহিতার নীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, পুনম ও পদ্মিনী নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ করে তাদের সংগঠনের আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন সরকারি অফিসে হাজির করেছেন, যার কোনো অনুমোদনই কার্যকরী কমিটি দেয়নি!
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উপাসনা সিং সংবাদ সংস্থা এএনআই’কে জানিয়েছেন, মোট ১১ জন সদস্য সংগঠন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যার মধ্যে ৮ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তারা লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন যে পদ্মিনী কোলহাপুরে এবং পুনম ধীলন নিজেদের পদের অপব্যবহার করছেন।

এদিকে সংগঠন ভেঙে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তা উড়িয়ে দিয়েছেন শিল্পী সমিতির নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুবিজ্ঞ শিক্ষার্থী। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, কার্যকরী কমিটি বাতিল হওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। সংবিধানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সমিতির সংবিধান অনুযায়ী, যদি নির্বাচিত সদস্যদের ৫০ শতাংশেরও বেশি পদত্যাগ করেন, তবেই কার্যকরী কমিটি ভেঙে দেওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি হয়নি।
খালি হওয়া পদগুলোতে বিগত নির্বাচনের ভোট গণনায় পরবর্তী তালিকায় থাকা নতুন সদস্যদের ইতোমধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
একদিকে পুনম ও পদ্মিনীর ওপর স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ, অন্যদিকে পদত্যাগী সদস্যদের একাট্টা হয়ে বিদ্রোহ, সব মিলিয়ে বলিউডের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পীদের সংগঠনে এখন গৃহযুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে!
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
