পটুয়াখালীতে চুরি হয়ে যাওয়া দুইটি আগ্নেয়াস্ত্রের সন্ধানে তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর এ নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়েছে পুলিশ।
উদ্ধার করা তৃতীয় অস্ত্রটি কার তা নিয়ে চোর ও অস্ত্রের মালিক পরস্পরকে দোষারোপ করছে। ঘটনার সত্যতা বের করতে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পটুয়াখালীর পূর্ব আরামবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে সোমবার রাতে গুলিসহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি হয়ে যায়। অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার ভোররাতেই অস্ত্র ও গুলিসহ চোর ধরে ফেলে পুলিশ।
কিন্তু বিপত্তি বাধে অস্ত্রসহ চোর ধরার পর। অভিযোগকারী বাসার মালিক পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তার বাসা থেকে চুরি হওয়া অস্ত্র ও গুলির মধ্যে রয়েছে- বেলজিয়ামের তৈরি একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি এবং ২৫টি গুলিসহ একটি একনলা বন্দুক।
তবে এসব অস্ত্র ছাড়াও চোরের কাছ থেকে পুলিশ ১৬ রাউন্ড গুলিসহ আরও একটি রিভলভার উদ্ধার করেছে।
আর চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মো. মনিরুজ্জামান মুন্নার দাবি, তিনি এই তিনটি অস্ত্র ও সব গুলিই ওই বাসা থেকে চুরি করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পূর্ব আরামবাগ এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস কর্মকর্তা একেএম কবির উদ্দিন তার স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য বাসায় তালো দিয়ে সম্প্রতি ঢাকায় যান। সোমবার রাতে তিনি প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার বাসায় চুরি হয়েছে।
ওইদিনই পটুয়াখালী ফিরে থানায় চুরির অভিযোগ করেন কবির উদ্দিন। অভিযোগে তিনি নগদ ১০ হাজার টাকা, অন্যান্য মালামালের পাশাপাশি স্টিলের আলমারিতে রাখা লাইসেন্স করা দুটি অস্ত্র ও গুলি চুরি হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
অভিযোগ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পটুয়াখালী সদর সার্কেল) সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দ্রুত তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও এলাকার চিহ্নিত অপরাধীদের ডাটা পর্যালোচনা ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না চুরির কথা স্বীকার করে। মুন্নাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামাল ও চুরির কাজে ব্যবহার করা যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
তবে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে অতিরিক্ত ১৬টি গুলি ও একটি রিভলভার থাকায় গোলকধাঁধায় পড়ে যায় পুলিশ। চোরের পাশাপাশি বাসার মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বেলে জানান পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মুন্না মাস্টার রোলে পটুয়াখালী শহরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ডে-গার্ড হিসেবে চাকরি করে। পাশাপাশি রাতে বিভিন্ন ধরনের চুরির সাথে জড়িত।
এদিকে খালি বাসায় আগ্নেয়াস্ত্র রেখে কেন অস্ত্রের মালিক বাইরে গেলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। আর এ কারণে তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশসহ অধিকতর তদন্তের কথাও জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করা এনজিও কর্মী গ্রেপ্তার