পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। উত্তাল রাবনাবাদ নদী পারাপারে ফেরি আর নৌকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফেরিবিহীন সরাসরি সড়ক যোগাযোগের শুভ সূচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লেবুখালী–বাউফল–গলাচিপা–আমড়াচিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিতব্য এই সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে দক্ষিণ উপকূলের মানুষের সামনে উন্মোচিত হলো এক নতুন দিগন্ত।
সকাল সাড়ে ৯টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এক জনসভায় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, রাবনাবাদ সেতু নির্মিত হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তি চিরতরে দূর হবে। সরকারের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণের পথ সহজ করা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা এই কাজ শেষ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বর্তমানে রাবনাবাদ নদী পার হতে ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বা রাতে জরুরি রোগী পরিবহনে চরম বিপাকে পড়েন এই তিন উপজেলার মানুষ। সেতুটি চালু হলে পটুয়াখালী জেলা শহর ও ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, এই সেতুর জন্য আমরা এক বছর ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আজ কাজের সূচনা হলো। আমরা চাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে এই সেতু দিয়েই মন্ত্রী মহোদয়কে আবারও আমাদের এলাকায় নিয়ে আসতে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৮৮২ দশমিক ৮১ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৪ কোটি চার লাখ ৮২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে থাকবে ১৯টি স্প্যান ও ২০টি পিয়ার। বড়ো নৌযান চলাচলের জন্য মাঝনদীতে ১০০ মিটারের একটি বিশেষ ‘স্টিল বাউ ট্রাস স্প্যান’ রাখা হবে। পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধানে যৌথভাবে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ বাস্তবায়ন করছে। ২০২৭ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহিদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
