কুমিল্লার মুরাদনগরে দরজা ভেঙে ধর্ষণের শিকার নারীর পরিবারকে মামলা তুলে না নিলে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু এই হুমকির পরও নির্যাতনের শিকার নারী মামলা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) একাত্তরকে এই তথ্য জানান নির্যাতনের শিকার ওই নারী।
ভয় কাটিয়ে দীপ্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘গ্রামের মোখলেস, আবুলরা বলেছে মামলা তুলে নে। তাহলে দেশটা শান্ত হবে। মামলা না তুললে ঝামেলা হবে, সেটা তোদের ওপর আসবে। তখন কিন্তু তোরা বাড়িতে থাকতে পারবিনা।’
তিনি জানান, ‘এর আগে স্থানীয় কয়েকজন টেলিফোনে তার স্বামীকে (প্রবাসী) মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়।’
স্বামীর টেলিফোনে কথোপকথনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ‘তোর (স্বামী) মান-সম্মান গেছে। তুই কেস করলে আর পারবিনা। কোনো কালেই পারবিনা।’
ভুক্তভোগী নারী জানান, ‘কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি না। প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতায় আমি ন্যায় বিচার আশা করি। আমার সঙ্গে আগে কারো কোনো সম্পর্ক ছিলো না। ফজর আলী দরজার খিল ভেঙে ঘরে ঢুকে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি নির্যাতনের শিকার, এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। স্বামী হুমকি পাওয়ার পর প্রবাস থেকে ফোন করে মামলা তুলে নিতে বলেছিলেন। তবে পরিবার ও নিজের সিদ্ধান্তে মামলা চালিয়ে যাবো। অন্যায়ের বিচার না হলে অন্যের সঙ্গেও এমন হতে পারে। প্রশাসনসহ সবার আশ্বাস- তারা আমার পাশে থাকবে। আমি অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করছি।
এদিকে নির্যাতনের ওই ঘটনায় বাংলাদেশের ৬৬টি নারী সংগঠনের নেতারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করছে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।
পাশাপাশি পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগীর বাড়ি গিয়ে তিনি ভুক্তভোগীর পরিবারসহ স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হীনমন্যতায় না ভোগার পরামর্শ দেন। বলেন, এখানে আমার যেমন অধিকার, আপনাদেরও তেমন। ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে হেনেস্তা করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, আপনাদের সঙ্গে বিএনপির বিরোধ সৃষ্টি করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এনসিপি যে ষড়যন্ত্র করেছে তা সফল হয়নি, হবেও না।
ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে তিনি বলেন, যারা এমন পাশবিক কাজে জড়িত ছিল তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তবে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এদিকে ওই ঘটনায় আরও একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে মারধরের সময় ওই নারীকে এক ব্যক্তি বিবস্ত্র করছেন, এমন চিত্র দেখা গেছে।
সোমবার (৩০ জুন) সকালে ‘তোর বাপেরা আইছে’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তিন মিনিট ৪২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে ফজর আলীকে নির্যাতন করতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে ওই সময় ভিকটিমকে আরেক ব্যক্তি বিবস্ত্র ও মারধর করতে দেখা গেছে।
অপরদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি অন্য দিকে নিতে এবং প্রকৃতি ঘটনা আড়াল করতে নির্যাতনের শিকার নারীর চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদেরও শাস্তি দাবি করেছেন নারী নেতারা।
ওই ঘটনায় ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া চার জনের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাহিদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ফজর আলী পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেই আদালতে তোলা হবে।
কুমিল্লার নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাড. বদিউল আলম সুজন বলেন, মুরাদনগরের লোমহর্ষক ঘটনার ভিডিওটি অপসারণের নির্দেশনা দেয় হাইকোট। এরপরও আরেকটি ভিডিও ছাড়া হলো।
গেলো শনিবার (২৮ জুন) ফেসবুকে ওই নারীকে নিপীড়নের প্রথম ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার ফজর আলী নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা করেন ওই নারী। পুলিশ ফজর আলীসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। ওই মামলায় চার জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নরসিংদীতে নকল সইয়ে টিআর/কাবিখার ৫২ লাখ টাকা তুলে আটক দুই
পূর্বাচলে ঘোড়া কেটে মাংস বিক্রি, যেতো ঢাকায়, আটক এক