সারাদেশে লেবু উৎপাদনের মধ্যে টাঙ্গাইল অন্যতম। রমজান উপলক্ষে বাজারে এক লাফে লেবুর দাম বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। চাষিরা বলছেন, বাগান থেকে যে দামে লেবু বিক্রি হয় খুচরা বাজারে তার দাম হয় দ্বিগুণেরও বেশি। আর কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়াতেই বেড়েছে লেবুর দাম।
লেবু চাষের অন্যতম জেলা টাঙ্গাইল। এখানকার বিভিন্ন উপজেলায় লেবু বাগান থেকে কেজি হিসাবে লেবু বিক্রি করেন চাষিরা, খুচরা বাজারে বিক্রি হয় হালি কিংবা ডজন হিসাবে। আকার ভেদে ৮ থেকে ১২টি লেবুর ওজন হয় এক কেজি।
কিছুদিন আগেও বাগান থেকে ১০টিতে এক কেজি হয় এমন লেবুর দাম ছিলো প্রতি কেজি ৪০ টাকা। সেই লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে।
লেবু চাষিরা বলছেন, তারা আগের মতোই দাম পাচ্ছেন। তারা দাম বাড়াননি।
কিন্তু এরপরও খুচরা বাজারে লেবুর দামের হিসাব মেলাতে পারছেন না ব্যবসায়ী আর ক্রেতারা। কারণ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে কেনা প্রতিটি লেবুর দাম পড়ে সর্বোচ্চ ৮ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা। এবার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে লেবু কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক ক্রেতা।
পাইকারি ব্যবসায়ী বলছেন, শ্রমিকের খরচ, পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খরচ মিলে তাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রোজা আসতেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ দুলাল উদ্দিন জানান, মাস দুয়েক পরে শুরু হবে লেবু উৎপাদনের ভরা মৌসুম। এখন বাগানে লেবু কম, অথচ চাহিদা বেশি। তাই এর দামও বেশি।
টাঙ্গাইল জেলার দুই হাজার হেক্টর জমিতে লেবু উৎপাদন হয় প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিবছর শীতকালে লেবুর চাহিদা সর্বনিম্ন থাকে, এসময় দামও থাকে কম। শীত শেষেই আবার বাড়তে থাকে লেবুর দাম।
ডলারের দাম নির্ধারণেই গলদ, বলছে মানি এক্সচেঞ্জগুলো