১৯৮তম জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী এ ঈদগাহ ময়দান। ঈদে দেশের সবচেয়ে বড় এই জামাতে ছয় লাখ মানুষের সম্ভাব্য আগমনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জামাত শুরু হবে ঈদের দিন সকাল ১০টায়। মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধায় ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে চলবে দুটি বিশেষ ট্রেন। দেশের নানা প্রান্তের মুসল্লিরা এখানে নামাজে অংশ নিতে আসেন।
ভৈরব-কিশোরগঞ্জ (স্পেশাল) নামের ট্রেনটি ভৈরব স্টেশন থেকে ঈদের দিন সকাল ছয়টায় ছেড়ে যাবে। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ (স্পেশাল) নামের অপর ট্রেনটি সকাল ছয়টায় ময়মনসিংহ থেকে ছাড়বে। নামাজ শেষে দুপুর ১২টায় এসব ট্রেন কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে ফিরে যাবে।
এদিকে সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে নামাজ আদায়ে মাঠের কাতারে দাগ কাটা, রঙ করা, ধোয়ামোছাসহ নানা সংস্কার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মাঠের চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার।

শনিবার (২৯মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় ঈদগাহ ময়দানের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতির কাজ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী।
তারা ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দেশের অন্য জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের থাকা-খাওয়ার প্রস্তুতি, চিকিৎসাসেবা, মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্য আসা-যাওয়ার ব্যবস্থাসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেছেন।
দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের মাঠে এসে নামাজ পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার জানান, এবার সহস্রাধিক পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, এপিবিএন ও পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। বসানো হয়েছে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর। পুরো জামাত পর্যবেক্ষণ করা হবে ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে। থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, নামাজ শুরু হবে সকাল ১০টায়। ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের যাত্রা শুরু ১৮২৮ সাল থেকে। স্থানীয় সাহেববাড়ির সৈয়দ আহম্মদ (র.) তার নিজ সম্পত্তিতে প্রথমবারের মতো ঈদ জামাতের আয়োজন করেন। সেবার তিনি নিজেই ইমামতি করে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে মাঠের প্রসার ও পরিচিতি ঘটান ঈশা খাঁর বংশধর স্থানীয় হয়বতনগর দেওয়ান পরিবারের সদস্য দেওয়ান মান্নান দাদ খান।
জনশ্রুতি আছে, একসময় শোলাকিয়া ঈদগাহে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সোয়া লাখ মুসল্লি হওয়ার কথা মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সেই থেকে ঈদগাহটি একসময় সোয়ালাখিয়া ঈদগাহ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
শনিবারের ঈদযাত্রায় সড়ক-নৌ-রেলপথে স্বস্তি