গত বছর দাম ভাল পাওয়ায় নড়াইলের তিন উপজেলায় বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তবে দাম কম পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
ব্যাপারীরা জানান, পাটকলগুলো পাট নেয়া কমিয়ে দিয়েছে। আর পাটের ব্যাপক ফলন হলেও এবার পাটের গুণগত মানও কম। তাই দাম বেশি দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। উৎপাদন খরচ কমাতে চাষিদের নানা পরামর্শ দেয়ার কথা বলছেন কৃষি কর্মকর্তা।
নড়াইলের সদর, লোহাগড়া আর কালিয়া উপজেলায় এবার বিপুল পরিমাণে পাট হয়েছে। মাইজপাড়া, মিঠাপুর, এরেণ্ডা, রূপগঞ্জ, তুলারামপুর ও চাচুড়িবাজারসহ জেলার ২৫টি হাট সয়লাব এখন নতুন পাটে।
পাট বেচাকেনায় মুখর থাকলেও দামে হতাশ চাষি। লাল পাটের উৎপাদনে ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হলেও মিলছে ১৫শ থেকে ১৯শ টাকা। আর ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা খরচের সাদা পাট বিক্রি করতে হচ্ছে ১৩শ টাকায়।
চাষিরা জানান, বাজারে নিয়ে গেলেও ভালো দাম পাওয়া যায়না। এছাড়া শ্রমিকদের খেতে দেওয়াসহ প্রায় হাজার টাকা মজুরি দিতে হয়।
ডিজেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেশি পড়েছে বলছেন চাষিরা।
পাটকলগুলো পাট নেয়া কমিয়ে দেয়ায় বাজারে পাটের দাম পড়ে গেছে বলছেন ব্যাপারীরা।
পাট ক্রেতারা জানান, কোম্পানিগুলো কোয়ালিটি খারাপসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় এনে দাম কমিয়ে দিচ্ছে।
উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজার দর নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, ফসলের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে চাষিদেরকে পাটচাষে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, চাষের বিভিন্ন ধাপে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হয়- আমরা তা কমিয়ে আনতে কৃষকদের নানান ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর নড়াইলে মোট ২৩ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পাট ও পাটখড়ির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরাও পাট চাষে ঝুঁকছেন। গত কয়েক বছর ধরে অনেক প্রান্তিক ও বর্গাচাষি অর্থকরী এ ফসল চাষে সাফল্য পেয়েছেন।
জ্বালানি তেলে দাম বাড়ায় ভর্তুকি চাইছে কৃষকরা