‘ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’-কালজয়ী এই গানের স্রষ্টা, প্রেম ও দ্রোহের কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র ৭০তম জন্মবার্ষিকী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো। তিনটি উপলক্ষে শুক্রবার কবির জন্মভূমি মোংলায় রুদ্র স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে মিঠাখালী বাজার থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে কবির সমাধিস্থলে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আগত অতিথি ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কবির রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পরে কবির পারিবারিক বাসভবনে এক স্মৃতি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও কবির ছোট ভাই সুমেল সারাফাতের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্পিতা হালদার।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকির হোসেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুর আলম শেখ, বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন, মারুফ বিল্লাহ, আজিজ মোড়ল এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম ও জানে আলম বাবু বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় সুমেল সারাফাত বলেন, রুদ্রের কবিতা মানেই সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার মেলবন্ধন। শোষণ, অসাম্য ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে তাঁর অনমনীয় অবস্থান তাঁকে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক দীপ্ত প্রতীকে পরিণত করেছে। অন্যদিকে তাঁর সৃষ্টির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে প্রেম, স্বপ্ন ও সুন্দরের গভীর মগ্নতা।
উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করা এই প্রখ্যাত কবি ১৯৯১ সালের ২১ জুনে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি স্বল্পায়ু জীবনে সাতটি কাব্যগ্রন্থ, গল্প, কাব্যনাট্য এবং অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন।
সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ইতোপূর্বে মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৭ সালে মরণোত্তর শ্রেষ্ঠ গীতিকারের সম্মাননা এবং ২০২৪ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন। এই জন্মবার্ষিকীতে পরিবারের পক্ষ থেকে কবির স্মরণে বর্তমান সরকারের কাছে মরণোত্তর 'স্বাধীনতা পদক' প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়।
