দেশের তিন জেলা—জয়পুরহাট, চুয়াডাঙ্গা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধভাবে বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) আলাদা তিনটি চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় বিজিবির কঠোর প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের এমন অপতৎপরতা রুখতে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় সাত স্তরের বিশেষ নজরদারি চালু করা হয়েছে।
একাত্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন:
জয়পুরহাটে বৃদ্ধকে পুশইনের চেষ্টা
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জি ইউনিয়নের হাটখোলা সীমান্তে সোমবার এক ভারতীয় বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল আটটার দিকে হাটখোলা সীমান্তের ২৭৯ নম্বর প্রধান পিলারের ২০ ও ২১ নম্বর উপপিলার এলাকা দিয়ে ওই বৃদ্ধকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির বাধায় বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে। এ নিয়ে দিনভর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে। অবশেষে রাত ৯টার দিকে ভারতের মথরাপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ওই বৃদ্ধকে নিজেদের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ওই এলাকায় বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থান বাড়ানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে সাত স্তরের কড়া নজরদারি
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত দিয়ে গত ১৪ জুন ভোরে ১১ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা রুখে দেয় বিজিবি ও স্থানীয় জনতা। গেদে বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা জিরো লাইনের ৭৬/৭৭ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে জয়নগর এলাকা দিয়ে পাঁচজন নারী ও ছয়জন পুরুষকে পুশইন করার চেষ্টা করলে রাতেই তাদের ভারতীয় অংশে পুশব্যাক করানো হয়।
এই ঘটনার পর থেকে জেলার ১৪৫ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে বিএসএফের যেকোনো প্রকার পুশইন তৎপরতা রুখতে সাত স্তরের তীক্ষ্ণ নজরদারি চালু করা হয়েছে। এই বিশেষ নজরদারিতে বিজিবির পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় সীমান্তগ্রামবাসী, গ্রাম পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, কমিউনিটি পুলিশ এবং জেলা পুলিশ।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা বিজিবি প্রতিহত করার পর থেকে সীমান্তে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যেন কোনোভাবেই বিএসএফ আর কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি কৃষকদের আপাতত চলাচল ও কর্মকাণ্ড সীমিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্তে তিন দিনে দ্বিতীয়বার ব্যর্থ
নৌকাযোগে তিন দিনের ব্যবধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির জোরালো বাধায় ওই নারীকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় তারা।
সোমবার দিবাগত গভীর রাতে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) এর রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ২২৫/৩-আর এর পাশ দিয়ে এ চেষ্টা চালানো হয়। ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর আর কে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা সিভিল মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে ওই নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে।
নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, বিজিবি টহল দলের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পুশইন প্রতিহত করা হয়েছে। ওই নারী সীমান্তের শূন্য লাইন বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত ১৩ জুন ভোর রাতেও একই সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। বিজিবি সদস্যদের তীব্র আপত্তিতে সেবারও তাদের ফিরিয়ে নিয়ে চলে যায় বিএসএফ।
