নওগাঁর সাপাহারে ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থী আটক কাণ্ডে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব ও সরফতুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের প্রকাশনা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. রিয়াদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে তিনজন কর্মকর্তাকে এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য দুইজন সদস্য কর্মকর্তা হলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (পরীক্ষা) আব্দুস সালাম ও উপ মাদ্রাসা পরিদর্শক আকরাম হোসেন।
এদিকে, ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সাপাহার থানায় একটা নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার রাতে (২০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও রেজিস্টার প্রফেসর মো. সিদ্দিকুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের দাখিল পরীক্ষায় নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় সরফতুল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসা ২৯১ নম্বর পরীক্ষা কেন্দ্রে ২০ ফেব্রুয়ারি আরবি সাহিত্যর দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা চলছিলো। এসময় কেন্দ্র সচিব কর্তৃক ৫৯জন ভুয়া পরীক্ষার্থী সনাক্ত করা হয় । যার মধ্যে সাপাহার শিমূলডাঙা দাখিল মাদ্রাসার ১১ জন, মানিকুড়া দাখিল মাদ্রাসার তিনজন, বলদিয়াঘাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসার দুইজন, পলাশডাঙা দাখিল মাদ্রাসার আটজন, দেওপাড়া শিংপাড়া দাখিল মাদ্রাসার তিনজন, আলাদিপুর দাখিল মাদ্রাসার একজন, তুলসিপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ১৪জন, আন্ধারদীঘি মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ১৭ জন।
৪০টি মাদ্রাসার মধ্য আটটি মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৪ ছাত্র এবং ৪৫ জন ছাত্রী রয়েছেন। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট প্রদানের জন্য নিদর্শনা প্রদান করা হয়েছে।
সাপাহার সরফতুল্লাহ মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রবেশপত্রের ছবির সাথে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মিল না থাকায় ৫৯ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীকে আটক করেন ইউএনও। পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ হোসেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব জানান, এই ঘটনায় নতুন কেন্দ্র সচিব বাদী হয়ে ওই আটটি মাদ্রাসার সুপারসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাপাহারে কেন্দ্রসচিবসহ ৫৭ প্রক্সি পরীক্ষার্থী আটক