ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ জুলাই) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। দুপুরে তাদের রংপুর সদর কোর্টে হাজির করা হলে আদালত জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন
এতে বলা হয়, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামের হিন্দুপাড়ায় অজ্ঞাতনামা লোকজন ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এ ঘটনায় শ্রী রবীন্দ্রনাথ রায় (৫৫) বাদি হয়ে অজ্ঞাত এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় যৌথ অভিযানে এরই মধ্যে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগ উঠে এক কিশোরের (১৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শত শত লোক লাঠিসোটা নিয়ে ওই কিশোরের বাড়িসহ ওই এলাকায় সনাতন সম্প্রদায়ের প্রায় সবার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুট চালায়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকলেও হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। গঙ্গাচড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আল এমরান জানিয়েছেন, হামলার সময় পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও একজন কনস্টেবল গুরুতর আহত হন। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতের জন্য টিন, কাঠ ও ৩০ বস্তা খাবার সরবরাহ করেছে। তবে, স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলো এখনও আতঙ্কে রয়েছে এবং অনেকে মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা তপন কুমার রায় জানিয়েছেন, প্রশাসনের তৎপরতায় তারা সন্তুষ্ট, তবে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দিতে হবে।
এ ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা এটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংবিধানের সমান অধিকারের নীতির পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছে।
আক্রান্ত এলাকার মানুষের ভাষ্য, এ ঘটনা বাংলাদেশে ধর্মীয় উত্তেজনা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার একটি পুনরাবৃত্তির প্রবণতাকে তুলে ধরে। ২০১২ সালে রামু ও এর পরে অন্য এলাকায় একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটলেও বিচার প্রক্রিয়া প্রায়ই অসমাপ্ত থেকে যায়। বর্তমান গঙ্গাচড়ার ঘটনায় পাঁচ জন গ্রেপ্তার হলেও, এত বড় পরিসরের হামলার জন্য দায়ি ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ শনাক্তকরণ ও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত সাড়া সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা।
