শারদীয় দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ভেস্তে দিল বগুড়ার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহরের ব্যস্ততম উত্তর চেলোপাড়া এলাকার দত্তবাড়ী সিএনজি স্ট্যান্ডে পকেটমারকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দত্তবাড়ী সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল পুলিশের একটি দল। ঠিক সে সময়ই চার-পাঁচ সদস্যের একটি কথিত পকেটমার চক্র সেখানে অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত অপরাধী রতন ব্যাপারীকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন পুলিশ সদস্যরা।
তবে রতন আটকের সঙ্গে সঙ্গেই তার সহযোগীরা এবং স্থানীয় কিছু লোক সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং ধস্তাধস্তি শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশের হাত থেকে ওই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় হামলাকারীরা। দুষ্কৃতকারীদের এই আকস্মিক ও সহিংস হামলায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) উজ্জ্বল গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশের কঠোর প্রতিরোধ ও সাহসিকতার মুখে শেষ পর্যন্ত আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ২৮ মামলার আসামি রতন ব্যাপারীকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃত রতন ব্যাপারী বগুড়া সদর উপজেলার উত্তর চেলোপাড়া এলাকার বাদল ব্যাপারীর ছেলে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ অন্তত ২৮টি গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু বগুড়া সদর থানাতেই তাঁর নামে তিনটি পরোয়ানা ঝুলছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, পূজার মতো একটি বড় উৎসবে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের ওপর এমন হামলা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। সব বাধা ও আক্রমণ উপেক্ষা করে পুলিশ দল চিহ্নিত অপরাধী রতনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, এই হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বাকি অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
