বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানান সংগঠনটির সভাপতি মো. আবু হোরায়রা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। প্রত্যেক নাগরিক পছন্দমত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনৈতিক ভাবনার বিস্তার ঘটাতে পারবেন। সংবিধান সেই ক্ষমতা নাগরিককে দিয়েছে।
তিনি জানান, ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু হয় ইউজিসির নীতিমালায়। এই নীতিমালায় ছাত্র সংগঠন করা যাবে না এমন কিছু বলা হয়নি এবং ২০১০ সালে ইউজিসি সেই নীতিমালায় পরিবর্তন আসে সেখানেও ছাত্র সংগঠন করা যাবে না এমন কিছু বলা নেই।
তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত ছাত্ররাজনীতির এরকম গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। তবে ক্রিয়াশীল ছাত্ররাজনীতি ধ্বংসের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে এক শ্রেণির নতজানু, প্রভুভক্ত, আত্মকেন্দ্রিক গোষ্ঠী।
মেধাবী নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই উঠে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে অসচেতন হলে দেশে দুর্নীতি, লুটপাট, ভয়ের সংস্কৃতি, বিচারহীনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির অভাবে দেশ একসময় বিদেশি প্রভু নির্ভর অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যম্পাসগুলোতে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দর্শনের চর্চা না হলে এক ধরনের মৌলবাদী, সন্ত্রাসী সংগঠনের উত্থান হওয়ারও ঝুঁকি থেকে যায়।
আরও পড়ুন: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ মানবে না বিএনপি
তিনি বলেন, রাজনীতি করা ব্যক্তির সাংবিধানিক অধিকার। কোনো প্রতিষ্ঠান সেটি নিষিদ্ধ করতে পারেনা। আমাদের জাতি হিসেবে যতো অর্জন তার প্রতিটিতে ছাত্র রাজনীতি বিশেষ অবদান রেখেছে। রাজনীতি সচেতন হওয়া প্রত্যেকটি মানুষের জন্য জরুরি৷ বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের জন্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে উঠবে।
এ সসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মালিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনার বসার আহবান জানান।
আবু হোরায়রা বলেন, অনেকে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ আইনি নোটিশ পাঠানো ও রিট করার চিন্তাভাবনাও আছে।
একাত্তর/এসি
