করোনা টিকার পেতে সর্বনিন্ম বয়স ১৮ করা হলেও তা কার্যকরের আগেই পরিবর্তন করে ২৫ বছর ও তদূর্ধ্ব করা হয়েছে। ফলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী টিকা পাচ্ছেন না। এদিকে কলেজ ও স্কুল পর্যায়ে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীও রয়েছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের টিকা না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা কম। আর তাই টিকাদানের এই বয়সের হেরফেরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ আবাও পেছাতে পারে বলে ধারনা করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে ২২০টি আবাসিক হলের এক লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হবে। সেজন্য ইতিমধ্যে ইউজিসির মাধ্যমে সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ২২০টি আবাসিক চাহিদা চাওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা গেছে, ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থীর তালিকা দেওয়া হয়েছে। যাদের পর্যায়ক্রমে টিকা দিতে সরকার কাজ করছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারী ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের তালিকাও তৈরি করছে। যাতে তারাও টিকা পান।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক একাত্তরকে বলেন, দুই মন্ত্রণালয় সমন্বয় করেই টিকাদানের সিদ্ধান্ত হয়েছিলো। আমরা যদি সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে না নামাতে পারি এবং সব শিক্ষার্থীদের টিকা না দিতে পারি তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা কষ্টকর হয়ে যাবে। আমরা শিক্ষক এবং কর্মচারীদের আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই টিকাদান সম্পন্ন করে ফেলবো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আমাদের কারো সঙ্গে সমন্বয়হীনতা নেই। মন্ত্রণালয়ের যাদের টিকা দেওয়া হবে, তাদের বিশেষভাবেই দেওয়া হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে। বয়স নিয়ে সমস্যা হবেনা।
আরও পড়ুন: পরীক্ষার ফল নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর জানান, তারা ধারণা করছেন- কলেজ পর্যায়ের প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী টিকার জটিলতায় ভুগবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় টিকার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠিও দিয়েছে।
একাত্তর/আরএ
