জেলবন্দী অপরাধী সুকেশ চন্দ্রশেখরের দুইশ' কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলার তদন্ত চলাকালীন সময়ে অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ ভারত ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে দিল্লির একটি আদালতকে জানিয়েছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
শনিবার দিল্লির আদালতে ইডি জানায়, এ বলিউড তারকা তদন্তকারীদের সহযোগিতা করছেন না। তিনি ভারত ছেড়ে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার নাম "লুকআউট সার্কুলার" বা 'দেশ থেকে বের হওয়া নিষেধ' তালিকায় থাকায় তিনি তা করতে পারেননি।
ইডি'র অভিযোগ, এ মামলার তদন্তের সময় জ্যাকলিন তার মোবাইল ফোন থেকে তথ্য ডিলিট করেছেন।
এ সময় জ্যাকলিনের নিয়মিত জামিনের বিরোধিতাও করেছে ইডি। যদিও আদালত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এছাড়া মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের সাথে মুখোমুখি বসতে এবং প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হলে, ফার্নান্দেজ সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি তদন্তের জন্য সহায়ক নয় এমন আচরণ করেছিলেন।
প্রতারণায় অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে জ্যাকলিনের সম্পর্ক নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন উঠেছে সম্প্রতি। আর্থিক প্রতারণার একটি মামলায় চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। সেখানে সুকেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক ওষুধ সংস্থার প্রাক্তন মালিক শিবেন্দ্র সিংহ এবং মালবেন্দ্র সিংহের পরিবারের সঙ্গে দুইশ' কোটি টাকার প্রতারণা করেছিলেন সুকেশ এবং তার স্ত্রী লিনা পল। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হন ওই দম্পতি। গত অক্টোবর মাসে দুইশ' কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় ইডির তরফে একাধিক বার জেরা করা হয় জ্যাকলিনকে।
আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধের দাবীতে গণ-অনশন কর্মসূচি
৯ লাখ টাকার পার্সি বিড়াল, ৫২ লাখ টাকার একটি ঘোড়া— এ রকমই মোট ১০ কোটি টাকার উপহার পেয়েছিলেন জ্যাকলিন। উপহারদাতা, সেই সুকেশ। চার্জশিটে ইডি এমনই দাবি করেছে।
ইডি বলেছে, ফার্নান্দেজ একা নন, আরেক বলিউড তারকা নোরা ফাতেহিও সুকেশের থেকে বিলাসবহুল গাড়ি এবং অন্যান্য দামী উপহার পেয়েছিলেন। এর আগে নোরাকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সংস্থাটি।
সংশ্লিষ্টদের ধারনা, সুকেশ কেসে এই দুই তারকাও বিপাকে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরও সাজা খাটতে হতে পারে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে মুম্বাই বিমানবন্দরে জ্যাকলিনকে দুবাই যেতে বাধা দেওয়া হয়।
একাত্তর/আরবিএস
