ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ নির্মাণ করা হয় বাংলাদেশেই। অদ্বৈত মল্লবর্মণের সাহিত্য থেকে ঋত্বিকের এই নির্মাণে, ফিরে ফিরে আসে, মানুষের ছিন্নমূল হবার জীবন গাঁথা। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অন্যতম প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান। বেঁচে থাকা একমাত্র অভিনেতা আবুল হায়াত। জন্মশতবর্ষে তাদের স্মৃতিতে সেই অনবদ্য নির্মাণের কথা।
মৃনাল সেন, ঋত্বিক ঘটক আর সত্যজিত রায়। বাংলা চলচ্চিত্রের তিন ধ্রুবতারা। সে এক সময় ছিল। দুর্বিনীত, উদ্ধত, অসহায়। তারা সেই যুগের প্রতিনিধি। দুনিয়াজোড়া তাঁদের খ্যাতি। তবে চলচ্চিত্র ভাষায় তিনজনই আলাদা।
এর মাঝে উল্কার মতো জ্বলে ওঠে দপ করে নিভে যাওয়া এক ক্ষ্যাপা ঋত্বিক ঘটক। ঢাকার ঋষিকেশ দাস লেইনে জন্ম নেয়া এই কিংবদন্তিকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিল দেশভাগ। এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তিনি মুছে দিয়েছিলেন শ্রেণি সত্ত্বা। হয়ে উঠেছিলেন মৌলিক।
প্রত্যাখ্যাত হওয়ার স্বাধীনতা মৃত্যুকাল পর্যন্ত বজায় রেখেছিলেন ঋত্বিক ঘটক। তবে তাকে দুদণ্ড শান্তি দেয় স্বাধীন বাংলাদেশে তার নির্মাণ- তিতাস একটি নদীর নাম।
ছবিটি নির্মাণে প্রায় এক বছর নির্মাতা ঋত্বিকের সঙ্গে একই ছাদের নীচে থেকেছেন হাবিবুর রহমান খান। মানুষের প্রতি ঋতিকের পরম মমতার কথা এখনও স্মরণে তার। এই ছবির বেঁচে থাকা একমাত্র অভিনেতা আবুল হায়াত। ফিরে গেলেন ৫৩ বছর আগের স্মৃতিতে।
ঋত্বিক তার প্রযোজককে বলেছিলেন, তিতাস একটি নদীর নাম ২০ বছর আগে নির্মাণ করে ফেলেছি। সত্য তাই, মুক্তির দুই দশক পরই ছবিটি আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেল। শুধু তাই নয়, ওয়ার্ল্ড সিনেমা ফাউন্ডেশনও এই নির্মাণকে তাঁদের আর্কাইভ প্রজেক্টে ঠাঁই দিয়েছে।
মৌসুমীর জন্মদিনে ওমর সানীর আবেগঘন পোস্ট