তুমুল জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা পুষ্পার দ্বিতীয় সিকোয়েলও বক্স অফিসে ঝড় তুলে বেড়ালেও, এই সিনেমার নায়ক আল্লু অর্জনের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। ভারতের হায়দারাবাদের এক থিয়েটারে ‘পুষ্পা-২’ দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় আল্লু অর্জুনকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন তেলঙ্গানা হাইকোর্ট। শনিবার সকালেই হায়দারাবাদের কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি।
তেলঙ্গনা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী জামিন দিলেও শুক্রবার রাতে কারাগারেই থাকতে হয় আল্লুকে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় হায়দারাবাদের চঞ্চলগুড়া জেলেই রাত কাটাতে হয় অভিনেতাকে। শনিবার সকালে জেল থেকে তিনি জুবিলি হিলসের বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। সকাল পৌনে সাতটা নাগাদ, নিরাপত্তার কারণে কারাগারের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় আল্লু অর্জুনকে।

কারাগার থেকে বেরিয়ে আল্লু অর্জুনের গলায় একটাই সুর, আমি দুঃখিত, শোকাহত। আইনকে সম্মান করি, তদন্তে সহযোগিতা করব। হাতজোড় করে আল্লু বললেন, মৃতার পরিবারের প্রতি আমি ব্যথিত। গোটা ঘটনায় শোকাহত। দেশের আইনকে সম্মান করি। কথা দিচ্ছি, এই দুর্ঘটনার তদন্তে সব সাহায্য করব।
কারাগার থেকে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যেতে গিয়েছিলেন তাঁর বাবা আল্লু অরবিন্দ এবং শ্বশুর কাঞ্চরলা চন্দ্রশেখর রেড্ডি। আল্লু বাড়িতে ফিরতেই তার কাছে ছুটে যান স্ত্রী স্নেহা রেড্ডি। স্বামীর বুকে মাথা রেখে কাঁদে ফেরেন অঝোরে। স্নেহা-আল্লুর সেই আবেগপ্রবেণ মূহূর্তের ভিডিও নেটপাড়ায় দাবানল গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলে আল্লু অয়ন এবং আল্লু আরহাও বাবাকে পেয়ে খুশি।

হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েও অভিনেতাকে কেন রাতে কারাগারে আটকে রাখা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর আইনজীবী। তাঁর দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশের কপি রাতেই কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা অজুহাতে অভিনেতাকে জেল থেকে ছাড়া হয়নি। ফলে রাতে জেলে থাকতে হয়েছে তাঁকে। এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানিয়েছেন আইনজীবী।
গত পাঁচ ডিসেম্বর আল্লু অর্জুন অভিনীত ‘পুষ্পা-২ দ্য রুল’ ছবি মুক্তি পায়। চার ডিসেম্বর রাতে হায়দারাবাদে ওই ছবির প্রিমিয়ার শো ছিলো ‘সন্ধ্যা’ থিয়েটারে। সেই উপলক্ষে সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা। তাঁকে দেখতে তাঁর অসংখ্য অনুরাগী সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো কালঘাম ছুটে যায় হায়দআরাবাদ পুলিশের। ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

দমবন্ধ হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হন নারীর ছেলে। সেই ঘটনায় আল্লুর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিম্ন আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কর্নাটক হাইকোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আর্জি জানান আল্লু। শুক্রবারই অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি।
এদিকে আল্লুর বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন মৃতার স্বামী ভাস্কর।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, মামলা তুলে নিতে প্রস্তুত আমি। আমি আল্লু অর্জুনের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর জানতাম না। আর, সেদিন পদপিষ্ট হয়ে আমার স্ত্রীর মৃত্যুর নেপথ্যে ওর তো কোনও হাত নেই।
