পর্দায় অসাধারণ সংলাপ আর দুর্দান্ত অভিনয়ে কোটি ভক্তকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান ও শ্রদ্ধেয় জ্যেষ্ঠ অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই। বৃহস্পতিবার, গোয়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে ছেলে মলহার পাটেকার জানিয়েছেন, স্বাভাবিক ও বাধ্যকজনিত কারণেই এই বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে। প্রায় পাঁচ দশকের বর্ণাঢ্য অভিনয় ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটিয়ে তিনি চলে গেলেও রেখে গেছেন অসংখ্য অমর সৃষ্টি।
শুধু পর্দার অভিনয় দিয়েই নয়, বাস্তব জীবনেও এক বিরল দেশপ্রেমের উদাহরণ গড়েছিলেন নানা পাটেকার। ১৯৯৯ সালের ঐতিহাসিক কারগিল যুদ্ধের সময় সরাসরি দেশের সেবা করতে সীমানায় ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতি স্মরণ করে অভিনেতা জানিয়েছিলেন, তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজের সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়ে সেদিনই যুদ্ধের ময়দানে পৌঁছে যান তিনি। কারগিল যুদ্ধের মূল ফ্রন্টে টানা ৬০ দিন কাটান এই অভিনেতা।

তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘কুইক রিঅ্যাকশন টিম’-এর অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করেছিলেন। দুই মাসের সেই কঠিন যুদ্ধ অভিজ্ঞতায় তাঁর ওজন ৭৬ কেজি থেকে কমে ৫৬ কেজিতে নেমে এসেছিল। কেবল দেশকে ভালোবেসে করা এই ত্যাগের বিষয়ে গর্ব করে তিনি বলতেন, দেশের জন্য অন্তত এতটুকু তো আমরা করতেই পারি।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অবশ্য আরও পুরোনো। নিজের পরিচালিত ও অভিনীত বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘প্রহার’-এর শুটিংয়ের আগে মারঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে কড়া সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। কারগিল যুদ্ধের সময় সেনাদের সঙ্গে এক চৌকি থেকে অন্য চৌকিতে ঘুরে তাদের মনোবল বাড়াতে অনন্য ভূমিকা রাখেন তিনি। তৎকালীন সময়ে সেনাদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি ছিল, আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বোফোর্স কিংবা একে-৪৭ নয়, আমাদের আসল শক্তি হলো আমাদের জওয়ানরা।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখা নানা পাটেকার দীর্ঘ পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে জিতেছেন তিনটি মর্যাদাপূর্ণ 'জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার'। ‘পরিন্দা’ ও ‘অগ্নি সাক্ষী’র জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা এবং মহাকাব্যিক ‘ক্রান্তিবীর’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার ঝুলিতে তোলেন তিনি। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তাঁকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত করা হয়।
সবশেষ তাঁকে সুরেশ ত্রিবেণীর ‘সুবেদার’ এবং বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ চলচ্চিত্রে দেখা গেছে। ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় এই বহুমুখী অভিনেতার হঠাৎ প্রয়াণে পুরো ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে এবং ভক্তদের মাঝে গভীর শোক ও বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এনডিটিভি
নাসিকের মঞ্চ থেকে বলিউডের ‘নাটসম্রাট’: চিরবিদায় নানার