আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দেয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে (বিআরওইউকে) এ কথা জানায়।
বিআরওইউকে সোমবার (২৯ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ২৬ নভেম্বর বুয়েনস আয়ার্সের ফেডারেল ফৌজদারি আদালতের দ্বিতীয় চেম্বার নিশ্চিত করেছে যে, তারা সার্বজনীন এখতিয়ারের নীতির অধীনে মিয়ানমারের সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা শুরু করবে।
সেকেন্ড চেম্বারের উল্লেখ করে এতে আরো বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কিছু অপরাধ এতটাই ভয়াবহ যে সেগুলোর বিচার যে কোনো জায়গায় করা যেতে পারে।
বিআরওইউকে ২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রথমে আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগের কাছে মিন অং হ্লাইং এবং বর্তমান জান্তার ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বসহ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের মামলার জন্য আবেদন করেছিল।
বিআরওইউকে এর প্রেসিডেন্ট তুন খিন বলেন, এটি শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য নয়, বরং সকল স্থানের নির্যাতিত মানুষের জন্য একটি আশার দিন। আর্জেন্টিনার এ সিদ্ধান্তে প্রমাণ হয় যে, যারা গণহত্যা ঘটায় তাদের লুকানোর কোনো জায়গা নেই। বিশ্ব এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বে করোনায় আজও চার হাজার মৃত্যু
এই মামলা নেওয়ার সাহস ও নৈতিক নেতৃত্ব দেখানোর জন্য আর্জেন্টিনার বিচার বিভাগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারে কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিচার এখন হাতের নাগালে।
তুন খিন বলেন, এই দায়বদ্ধতা কেবল রোহিঙ্গাদের জন্যই নয় বরং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংস শাসনে ভুক্তভোগী সবার জন্য। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের পর থেকে হাজার হাজার নিহত, আহত, নির্যাতিত বা নিখোঁজ সকলের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য।
একাত্তর/আরএ
