পাকিস্তান সরকারের সাথে জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি বা পাকিস্তান তালেবান) এক মাস ধরে চলমান অস্ত্রবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুসারে শতাধিক বন্দিকে মুক্তি এবং আলোচনার জন্য কমিটি গঠন করেনি সরকার। তারা আরও বলেছে, চুক্তি কার্যকর থাকা অবস্থাতেই নিরাপত্তাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
দুই পক্ষ একমত হলে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গত মাসে সমঝোতা হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তিটির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ ছিল। এই সমঝোতা ছিল হাজারো মানুষ নিহত হওয়া সংঘাত অবসানের জন্য একাধিক উদ্যোগের একটি।
গত আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে টিটিপি’র চুক্তি নতুন গুরুত্ব পায়। টিটিপি সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতির শর্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকার অভিযোগ এনেছে।
এক বিবৃতিতে টিটিপি বলেছে, এখন পাকিস্তানের জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, টিটিপি নাকি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, কারা চুক্তি মানছে না? এই পরিস্থিতিতে অস্ত্রবিরতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলায় ১৬ মুসল্লি নিহত
উল্লেখ্য, আফগান তালেবান ও পাকিস্তান তালেবান আলাদা সংগঠন। পাকিস্তানের সরকারকে উৎখাত ও নিজেদের ইসলামি শরিয়া আইনভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েক বছর ধরে লড়াই করছে টিটিপি।
২০১২ সালে মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলা চালানোর জন্য পরিচিতি পায় টিটিপি। গত কয়েক বছর ধরে তাদের বোমা ও আত্মঘাতী হামলায় কয়েক হাজার সামরিক সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
২০১৪ সালে পেশাওয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলায় ১৪৯ জন নিহত হয় যাদের মধ্যে ১৩২ জনই ছিল শিশু।
একাত্তর/এসজে
