‘পানামা পেপার্সে’ নাম আসার পর বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর সোমবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দিল্লি অফিস থেকে বের হন তিনি।
আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তী সময়ে আবারও তলব করা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি কোম্পানিতে অর্থ সঞ্চয়ের অভিযোগে তদন্ত সংস্থা তার বিবৃতি রেকর্ড করেছে।
বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চনের পুত্রবধূ ৪৮ বছর বয়সী এই তারকাকে এর আগে দু'বার তলব করা হলেও আরও সময় চান তিনি। শেষে তৃতীয়বারের নোটিশে দেখা করেন।
২০১৭ সাল থেকেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অভিযোগের তদন্ত শুরু করে।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার লিবারলাইজড রেমিট্যান্স স্কিমের (এলআরএস) অধীনে ২০০৪ সাল থেকেই বচ্চন পরিবারকে বিদেশী রেমিট্যান্স ব্যাখ্যা করতে বলে নোটিশ জারি করে আসছে সংস্থাটি।
.jpg)
সূত্রের তথ্যানুসারে, গত ১৫ বছরের প্রাপ্ত বিদেশ থেকে আয়ের রেকর্ড জমা দিয়েছেন ঐশ্বরিয়া রাই।
২০০৪ সালে ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে প্রতিষ্ঠিত অফশোর কোম্পানি 'অ্যামিক পার্টনার্সের' পরিচালক হিসেবে মনোনীত হন তিনি। পানামা-ভিত্তিক আইন সংস্থা মোসাক ফনসেকা কোম্পানিটিকে নিবন্ধিত করেছিল, যার পরিশোধিত মূলধন ছিল ৫০ হাজার ডলার।
আরও পড়ুন: ওমিক্রন রুখতে ৩৭ গুণ বেশি সুরক্ষা দেয় মডার্না বুস্টার ডোজ
২০০৯ সালেই তিনি কোম্পানি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। দুবাই-ভিত্তিক বিকেআর অ্যাডোনিস এটি অধিগ্রহণ করে।
প্রসঙ্গত, গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে স্বীকৃত পৃথিবীর অন্যতম প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকা পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে ফাঁস হওয়া ১১ মিলিয়ন নথিপত্রকেই বলা হচ্ছে পানামা পেপারস।
অভিযোগ আছে বিশ্বের ধনী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কর এড়াতে অফশোর অ্যাকাউন্ট বা শেল কোম্পানিগুলো তৈরি করে থাকে।
২০১৬ সালে ফাঁস হওয়া ‘পানামা পেপার্সে’ অমিতাভ বচ্চন, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন ও অভিষেক বচ্চনসহ ভারতের ভারতের রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড়সহ ৩০০ জনের নাম আসে, যারা কর ফাঁকি দিয়ে বিদেশে বিনিয়োগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
একাত্তর/টিএ
