তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগ এনে দেশটির বিশিষ্ট টেলিভিশন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে।
শনিবার স্থানীয় সময় রাত দুইটার দিকে সেদেফ কাবাস নামে ওই নারী সাংবাদিককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দেশটির একটি আদালত বিচারকাজ শুরুর আগ পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকার নির্দেশ দেন।
বিরোধী দলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে এবং নিজের টুইটার বার্তায় এরদোয়ানকে উদ্দেশ্য করে একটি প্রবাদ বলার কারণে তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
সেদেফ কাবাস বলেন, বিখ্যাত একটি প্রবাদ রয়েছে ‘রাজপ্রাসাদে ষাঁড় ঢুকলে রাজা হতে পারে না, বরং প্রাসাদটাই গোয়ালঘর হয়ে যায়।’
তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তুর্কির যোগাযোগ অধিদপ্তরের প্রধান এবং এরদোয়ানের প্রধান মুখপাত্র ফাহরেতিন আলতুন বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সম্মান আমাদের দেশের সম্মান। আমাদের প্রেসিডেন্ট এবং তার দপ্তর নিয়ে করা এমন মন্তব্যের আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
এদিকে বিরোধী দলীয় ওই চ্যানেলের প্রধান সম্পাদক মার্ডান ইয়ানারডাগ সেদেফ কাবাসের আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: মুসলিম হবার কারণে ব্রিটেনে মন্ত্রীত্ব হারানোর অভিযোগ
মার্ডান ইয়ানারডাগ বলেন, ‘শুধু এক প্রবাদের জন্য রাত দুইটার সময় তাকে আটক করা মোটেও গ্রহণযোগ্য না। সাংবাদিক, গণমাধ্যম এবং সমাজকে ভয় দেখাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে’।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেদেফের এক থেকে চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এই বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
আইনটির মাধ্যমে ব্যক্তিকে আটক করে তার বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে উল্লেখ করে গত বছরের অক্টোবরে ইউরোপের সর্বোচ্চ মানবাধিকার আদালত এই আইন পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
২০১৪ সালের আগস্টে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এরদোয়ান। এর আগে ১১ বছর তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রেসিডেন্ট হবার পর গত সাত বছরে এরদোয়ানের মানহানি করায় হাজারও মানুষকে অভিযুক্ত ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রয়টার্স বলছে, গত বছর এ ধরনের ৩১ হাজারের বেশি অভিযোগের তদন্তকাজ চলেছে।
একাত্তর/টিএ
