পাম অয়েল রপ্তানিতে ইন্দোনেশিয়ার দেয়া আচমকা নিষেধাজ্ঞায় বড় সংকটের মুখে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের মতো ক্রেতারা। এরই মধ্যে এসব দেশে বেড়ে গেছে ভোজ্যতেলের দাম।
শুধু ভারতেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে পাঁচ শতাংশ। নিত্যপণ্যের বাজারে সম্ভাব্য বড় অস্থিরতা ঠেকাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো মালয়েশিয়া থেকে আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, ঘাটতি পূরণে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
বিশ্বব্যাপী ভোজ্যতেল কেনাবেচার প্রায় ৬০ শতাংশই হয় পাম অয়েল এবং বৈশ্বিক ভোজ্যতেল রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে শীর্ষ উৎপাদক ইন্দোনেশিয়া। তবে, ২৮ এপ্রিল থেকে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে।
এতে সারাবিশ্বে পাম, সয়াবিন, সূর্যমুখীসহ সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে শিল্প পর্যবেক্ষকরা। এটি জ্বালানি ও খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া এবং আফ্রিকার খরচ-সংবেদনশীল গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন তারা।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পাম তেল ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে থাকে। বিশ্বের বৃহত্তম উদ্ভিজ্জ তেল আমদানিকারক ভারতের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ।
পাকিস্তান বলছে, ইন্দোনেশীয় পাম তেলের ঘাটতি পূরণের ক্ষমতা আর কারও নেই। এতে সব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর ভারত বলছে, মূল্যবৃদ্ধিতে তেল পরিশোধকদের কাছে কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়। সে সময় দাম কমে আসার আশায় তারা স্বাভাবিকের চেয়ে কম উৎপাদন করে। তবে, সব তেলের দাম এরপর আরও বেড়ে যায়।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে এমনিতেই ভোজ্যতেলের সরবরাহ কম। এখন ইন্দোনেশিয়ার নিষেধাজ্ঞায় ক্রেতা দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজতে যেমন বাধ্য, তেমনি বাড়তি দামে তেল কেনার কোনো বিকল্পও তাদের সামনে নেই।
আরও পড়ুন: নওয়াজের পাকিস্তানে ফেরা এখন সময়ের ব্যাপার
যুক্তরাজ্যের বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইন্দোনেশিয়ার সিদ্ধান্ত শুধু পাম অয়েলের নয়, বিশ্বব্যাপী অন্যান্য উদ্ভিজ্জ তেলের বাজারও প্রভাবিত করবে।
নিষেধাজ্ঞার খবরে এরিমধ্যে পাম তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে ভারতের বাজারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিটুজি বা আন্তঃসরকার আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। নয়তো বিকল্প উৎস মালয়েশিয়ার পাম তেলেরও দাম বাড়বে বলে শঙ্কা তাদের।
একাত্তর/এসি
