চলমান গণআন্দোলন মুখে সোমবার পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে। এ ঘোষণার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর সমর্থক ও সরকারবিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক সংসদ সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক মানুষ।
এদিকে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য অমরাকীর্থি আথুকোরালা। জানা যায়, রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠে বিক্ষোভকারীদের অবরোধের মুখে পড়েন তিনি। এ সময় দুই বিক্ষোভকারীকে গুলি করেন তিনি, তাদের মধ্যে ২৭ বছর বয়সী এক যুবক মারা যান। এরপর বিক্ষোভকারীরা তাকে ঘিরে ধরে। এক পর্যায়ে নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) ও লঙ্কান সংবাদমাধ্যম স্বরাজ্যঘ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১০ মে) সকালেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি।
রাজাপক্ষের সমর্থকেরা বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলায় নারী-শিশুসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও গুরুতর আহত হয়েছেন।

সংসদ সদস্য অমরাকীর্থি আথুকোরালা
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ও তার ভাই মাহিন্দা রাজাপাকসের পিতামাতার জন্য নির্মিত স্মৃতিসৌধ ধ্বংস করে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। হামবানটোটায় তাদের পারিবারিক বাড়িতেও আগুন দেয়া হয়েছে। এছাড়া সাবেক তিন মন্ত্রী ও দুই সংসদ সদস্যের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। দেশজুড়ে জারি রয়েছে কারফিউ।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় বাস চাপায় দুই পথচারী নিহত
এরইমধ্যে এসব ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে একাধিক বাড়ি থেকে আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে। রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছে।
বৈদেশিক ঋণের চাপে ভেঙে পড়ে দেশটির অর্থনীতি। এ জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ি করছে মানুষ। দেশব্যাপী বিক্ষোভ করছেন নাগরিকরা। বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার থেকে টেলিভিশন তারাকারা। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বাজার ব্যবস্থা।
একাত্তর/আরবিএস
