অস্থির শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে শপথ নেন তিনি।
এরপরও কারফিউ উপেক্ষা করে এবার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে দেশটির আন্দোলনকারিরা।
এদিকে, শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। মাহিন্দার ছেলেসহ আরও ১৫ জনের উপরও একই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে সহিংস বিক্ষোভে টালমাটাল শ্রীলঙ্কায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। তাঁকে শপথ পড়ান প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ে। যিনি মাহিন্দার ভাই।
পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও শ্রীলঙ্কার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি-ইউএনপির শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রেসিডেন্ট ভবনে। এরপর কলম্বোয় একটি মন্দির পরিদর্শন করে দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।
এরমধ্যে দিয়ে গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।
এর আগে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন রনিল। তবে, নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিলেও দেশটির চলমান অচলাবস্থা শিগগিরই কাটছে না বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ছাড়া জাতীয় ঐক্যের সরকারে যোগ না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির বিরোধী দলগুলো।
একইসাথে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে কারফিউ উপেক্ষা করেই কলম্বোয় তাঁর কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভ চলছে।
রাজাপাকসে পরিবারের কেউ সরকারে থাকুক সেটা কোনোভাবেই চান না বিক্ষোভকারীররা। সেই দাবির কথাই বারবার জানাচ্ছেন আন্দোলনকারিরা।
এদিকে, বিক্ষোভকারীদের উপর সরকার সমর্থকদের হামলার জেরে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
মাহিন্দার ছেলে নামাল ছাড়াও এ তালিকায় রয়েছেন তার ১৫ সহযোগী। এসবের মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে রাজধাণী কলম্বো ছাড়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন লঙ্কানরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে সাত ঘন্টার জন্য কারউফিউ তুলে নেয়া হয়। এরপরই শহর ছাড়া মানুষের ঢল নামে বাসস্টেশনে। বেলা গড়াতে গড়াতে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে।
এছাড়া, বাধ্য হয়ে শহরে থেকে যাওয়া মানুষ এই সময়ের মধ্যে সেরে নিয়েছেন প্রয়োজনীয় কেনাকাটা। তেলের পাম্পগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন।
গত এপ্রিল মাস থেকে চরম অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত শ্রীলঙ্কা। তখন থেকে রাজাপাকসেদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাজপথে নেমেছেন বহু মানুষ।
এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন মাহিন্দা। তার পর থেকেই চরম নৈরাজ্য শুরু হয় দেশটি জুড়ে। জ্বালিয়ে দেয়া হয় এমপি-মন্ত্রীদের বাড়ি।
একাত্তর/এআর
