চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে বিভিন্ন বন্দিশিবিরে আটক উইঘুর সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর চালানো নির্যাতন নিয়ে চাঞ্চল্যকর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।
'শিনজিয়াং পুলিশ ফাইলস' নামে ফাঁস হওয়া গোপন এসব নথি পাওয়া গেছে ওই এলাকার পুলিশের কম্পিউটার সার্ভার হ্যাক করে। ফাঁস হওয়া হাজার হাজার নথি এবং ছবি ব্যবহার করে সেখানকার একটি বন্দিশিবিরের অবস্থা চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেছে বিবিসি।
শুফু কাউন্টি নিউ ভোকেশনাল স্কিলস এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং সেন্টার নামে ওই বন্দিশিবিরে কি কি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় তাই বের করার চেষ্টা করা হয়েছে বুধবার (২৫ মে) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে।
কাশগর শহরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত এই বন্দিশিবিরে তিন হাজার ৭২২ জন 'শিক্ষার্থী' রয়েছে বলে জানা গেছে, যাদেরকে পাহারা দেয় ৩৬৬ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য।
নথি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ট্রেনিং সেন্টারের মূল ফটক ও প্রতিটি ভবনের ফটকে পুলিশি পাহারা রয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫ জন সর্বদা সশস্ত্র থাকেন।
আর প্রতিটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে পাহারায় থাকেন স্নাইপার রাইফেল ও মেশিন গানসহ দুইজন করে পুলিশ অফিসার।
তবে এসব নথির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটিতে বলা হয়েছে, বন্দিশিবির থেকে কেউ পালাতে চাইলে তাকে দেখামাত্রই গুলি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেখানকার পুলিশ কর্মকর্তাদের।
অ্যালার্ম বাজলেই সাথে সাথে চারপাশের রাস্তা বন্ধ করে সব ভবন লকডাউন করে দেয়া হয়। এরপর ভেতরে পাঠানো হয় সশস্ত্র 'স্ট্রাইক গ্রুপ'কে।
সতর্কতার জন্য একবার গুলি করার পরও যদি পালানোর চেষ্টা করে তাহলে তাকে গুলি করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। নথিতে আরও বলা হয়েছে, পালানোর চেষ্টাকারীকে 'জিজ্ঞাসাবাদের জন্য' নিয়ে যাওয়া হয় এবং 'বাকিদের চিন্তা ও অনুভূতিকে স্থির করে' কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে যে স্কুলটি 'নিরাপদ ও স্থিতিশীল' রয়েছে।
চীনের দাবি, সংখ্যালঘু উইঘুর ও টার্কিক সম্প্রদায়ের কৃতজ্ঞ ও ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিপদ থেকে রক্ষা করতে তাদেরকে শিক্ষা দিতেই এসব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: উইঘুর মুসলিম বন্দি শিবিরের ভয়াবহ তথ্য ফাঁস
এগুলোর বেশিরভাগই ২০১৯ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও, অনেকগুলো এখনও চালু থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে ফাঁস হওয়া শিনজিয়াং পুলিশ ফাইলসে।
এ ব্যাপারে ওয়াশিংটন ডিসিতে চীনা দূতাবাসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলে তারা এক বিবৃতিতে জানায়, গুরুতর ও জটিল সন্ত্রাস-বিরোধী পরিস্থিতিতে বেশ কিছু চূড়ান্ত, বলিষ্ঠ ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে শিনজিয়াং।
তবে এ ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক পরিমাণে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করে তারা। তাদের দাবি, শিনজিয়াংয়ের মানুষ নিরাপদে সুখী এবং সমৃদ্ধ জীবনযাপন করছেন।
একাত্তর/এসজে
