মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা’র আলোচিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া আরও একঝাঁক ছবি প্রকাশ হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ জুলাই) নতুন এসব ছবি প্রকাশ করা হয়। এসব ছবিতে মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন যেসব ধারণা পাওয়া যাবে তা আগে কখনোই পাওয়া যায়নি।
নতুন প্রকাশ করা ছবি সম্পর্কে নাসার প্রশাসক বিল নেলসন বলেন, প্রতিটি ছবি মানবজাতিকে মহাবিশ্ব সম্পর্কে এমন ধারণা দেবে যা আগে কখনোই পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আমরা ১ হাজার ৩০০ কোটি বছরেরও বেশি পেছনের দিকে তাকাচ্ছি। তিনি আশা প্রকাশ করে আরও বলেন, নাসা শিগগিরই আরও ছবি প্রকাশ করবে।
সেগুলো প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি বছর আগের। এসব ছবি মহাবিশ্বের আনুমানিক শুরুর বিন্দুর কাছাকাছি। অর্থাৎ আমরা প্রায় শুরুতে ফিরে যাচ্ছি।
বিজ্ঞানীরা ওয়েব টেলিস্কোপের তথ্যের গুণগত মান বিশ্লেষণ করে বলছেন, প্রথম ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে এই টেলিস্কোপ তার থেকেও অনেক গভীরে গিয়ে মহাজগতের চিত্র তুলে আনতে সক্ষম।
সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া প্রথম পূর্ণাঙ্গ রঙিন ছবি প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি একটি ছবি প্রকাশ করেন।
১০ বিলিয়ন ডলারের নাসার ফ্ল্যাগশিপ মিশনখ্যাত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি হাবল টেলিস্কোপের উত্তরসূরি। গত বছর ২৩ ডিসেম্বর এটি মহাকাশে পাঠানো হয়।
২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ফরাসি গিনি থেকে পাঁচ রকেটের মহাকাশযানে চেপে জেমস ওয়েবকে মহাকাশে নেয়া হয় এবং কক্ষপথে বাসানো হয়।
কয়েক দশকের অপেক্ষা শেষে দ্য জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তোলা ছবিটি দেখার সুযোগ হলো বিশ্ববাসীর। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও বৃহত্তর টেলিস্কোপ।

সাদার্ন রিং নেবুলা হলো একটি গ্রহের নীহারিকা। এটি আসলে একটি মৃত নক্ষত্রকে ঘিরে রাখা বর্ধিত গ্যাসের মেঘ। এটির ব্যাস প্রায় অর্ধ আলোকবর্ষ। এর কেন্দ্রে অনুজ্জ্বল নক্ষত্রটি হাজার হাজার বছর ধরে চারদিকে গ্যাস ও ধুলোর বলয় পাঠাচ্ছে। নক্ষত্রের জন্ম হয় নীহারিকাতেই।

ছবিতে যেটি দেখে আলো ঝলমল পাহাড়ের দৃশ্যের মতো মনে হচ্ছে তা আসলে ক্যারিনা নেবুলা থেকে একটি নতুন নক্ষত্র সৃষ্টির প্রান্ত। এটির নাম এনজিসি ৩৩২৪। ওয়েব টেলিস্কোপ চিত্রটি প্রথমবার নক্ষত্রের জন্মের নানা দিক তুলে ধরেছে, যা আগে কেউ দেখেনি।

স্টেফানস কিনটেট হলো পাঁচটি ছায়াপথের একটি দল। ওয়েব টেলিস্কোপের ছবিগুলোতে লাখ লাখ নতুন ঝকঝকে নক্ষত্রগুচ্ছ দেখা গেছে। এছাড়া নতুন নক্ষত্রের জন্মের সময় ‘স্টারবার্স্ট’ এলাকার ছবিও ধরা পড়েছে। বিভিন্ন ছায়াপথে ‘স্টারবার্স্ট’ এলাকায় বিপুল হারে নক্ষত্র জন্মের প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

এসএমএসিএস ০৭২৩ হলো একগুচ্ছ ছায়াপথ। এসবের পেছনে থাকা বস্তুর আলোকরশ্মি বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার আলো এদিক ওদিক ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতাও রয়েছে। জেমস ওয়েবের তোলা এই ছবির কারণে, দূরবর্তী নক্ষত্রগুলোকে এবং ক্ষীণ হয়ে আসা ছায়াপথের গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।
একাত্তর/এসজে
