“ওরা আমাদের মাথায় গুলি চালায়
কিন্তু ওরা জানে না বিপ্লবের স্থান হৃদয়ে”
লাইনগুলো লিখেছিলেন ৪৫ বছর বয়সী মিয়ানমারের কবি খেত থি। শনিবার (৮ই মে) মায়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা খেত থি'কে তুলে নিয়ে যায় বাসা থেকে। ঠিক একদিন পর তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত শনিবার (৮ই মে) স্ত্রী চাও সু সহ খেত থি-কে শোয়েবো শহর থেকে আটক করে নিয়ে যায় মায়নমার সামরিক জান্তা সরকারের সেনা এবং পুলিশ বাহিনীর একদল সশস্ত্র সদস্য। সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চাও'কে ছেড়ে দেওয়া হলেও কবি খেত থি'কে আটক রাখা হয়। স্ত্রীকে জানানো হয়, খেত থি'কে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
পরদিন (রোববার) সকালে খেত থির স্ত্রী'কে ফোন করে হাসপাতালে আসতে বলে সামরিক জান্তা। সেখানে স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। 'আমি ভেবেছিলাম হয়ত ওর হাত ভেঙ্গে দেওয়া বা ওরকম কিছু করা হয়েছে। কিন্তু গিয়ে দেখি ওকে মর্গে রাখা হয়েছে। আর ওর অভ্যন্তরীণ কিছু অঙ্গ উধাও।'
হাসপাতাল থেকে জানানো হয় হৃদরোগের কারণে খেত থি'র মৃত্যু হয়েছে।
‘রাজনৈতিক বন্দি সহায়তা সংঘ’ নামের মায়ানমারের একটি অ্যাক্টিভিস্ট সংগঠন দাবী করেছে জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে অত্যাচারের শিকার হওয়ার কারণেই খেত থি'র মৃত্যু হয়েছে। এই সংগঠনের দাবী, ফেব্রুয়ারি মাসে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে ৭৮০ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে সামরিক জান্তা সরকার।
মায়নমারে এখন পর্যন্ত এমন অন্তত তিনজন কবির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।
একাত্তর/এসজে/এআর
