ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা ছাড়বে না রুশ সেনারা। নিরস্ত্রীকরণের আবেদনে প্রেক্ষিতে এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও সংবাদমাধ্যম বিভাগের উপ-পরিচালক ইভান নেচায়েভ নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে জানান, নিরস্ত্রীকরণের পদক্ষেপ ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। খবর: বিবিসি।
ইউরোপের বৃহত্তম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই। এর প্রেক্ষিতে এই এলাকাকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, এই এলাকায় হামলার জন্য একে অপরকে দুষছে মস্কো ও কিয়েভ। মস্কোর বিরুদ্ধে কিয়েভের অভিযোগ, তারা এ কেন্দ্রকে সেনা ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।
কিয়েভের দাবি, আবেদনটি এসেছে মূলত ইউক্রেনের কর্মীদের কাছ থেকে যারা ওই কেন্দ্রে কাজ করছেন রাশিয়ার নির্দেশনায়। তারা সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। কারণ ওই কেন্দ্রের আশেপাশে দুই সপ্তাহ ধরে হামলার ঘটনা ঘটছে।

জানা যায়, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনা করছেন ইউক্রেনের কর্মীরা। আর মার্চ থেকেই এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রাশিয়া।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, জাপোরিজ্জিয়ায় সম্ভাব্য ক্ষতির অর্থ হলো আত্মহত্যা।
এর আগে, লিভিভে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তুর্কিয়ের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জেলেনস্কি জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছেন এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা নিরস্ত্রীকরণের আবেদন জানান।
জেলেনস্কির আবেদনের প্রেক্ষিতে গুতেরেস বলেন, স্পর্শকাতর এই স্থাপনাকে কোনোভাবেই সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এরদোগানও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমি ‘আরেকটি চেরনোবিল’ বিপদ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন।
একাত্তর/জো
