ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চীনের প্রভাবকে কাজে লাগাতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) বেইজিং সফরে জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে এ আহবান জানান তিনি।
শলৎজ বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক হামলার হুমকি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সম্মত হয়েছে দুই দেশই। তবে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের নিন্দা জানাতে অসম্মতি জানিয়েছেন শি জিনপিং।
ইউক্রেন ইস্যুতে শি জিনপিং বলেন, বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের উচিৎ শান্তিপূর্ণভাবে সংকট সমাধানে সহায়তা করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার বা ব্যবহারের হুমকির বিরোধিতা করা।
চীনের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে শি নিজের স্থান পাকাপোক্ত করা পর জার্মান চ্যান্সেলরের এ সফরের সমালোচনা করেছেন অনেকে। মাত্র ১১ ঘণ্টার এ সফর নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
মাত্র গত মাসেই কমিউনিস্ট পার্টির ন্যাশনাল কংগ্রেসে টানা তৃতীয় মেয়াদে পার্টির প্রধান হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন জিনপিং। এরপর এই প্রথম কোনও পশ্চিমা নেতা চীন সফর করছেন।
জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশই শলৎজের এই সফরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ সফর চীনে জিনপিংয়ের মতো একজন স্বৈরাচারী শাসকের খ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেবে বলে উদ্বিগ্ন তারা।
তবে পূর্বসূরি অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের মতো শলৎজেরও বিশ্বাস, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে চীনের সাথে সহযোগিতার বিকল্প নেই। যেসব বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে, সেসব বিষয় নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শলৎজ।
বৈঠকে 'পরিবর্তন ও অশান্তির এই সময়ে' একসাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন শি জিনপিং। ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও মহামারি নিয়ে আলোচনা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।
তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে জার্মানির অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন শলৎজ। স্ট্যাটাস কুওর যেকোনো পরিবর্তন হতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে, এবং মানবাধিকার অবশ্যই রক্ষা করতে হবে, বিশেষত জিঞ্জিয়াংয়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের।
ইউরোপের দেশগুলো এই সফরকে ঘনিষ্ঠভাবে যাচাই করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কর্মী ছাঁটাই শুরুর আগে বন্ধ টুইটার দপ্তর
চীন ইস্যুতে ব্যতিক্রমী পথ অবলম্বন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন ওলাফ শলৎজ। তবে এ নিয়ে জার্মানি ও ইউরোপের অনেক দেশেরই তার ওপর আস্থা নেই।
চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক জার্মানিকে বিপদে ফেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের, যেমনটা হয়েছে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতার ফলে। চীনের সাথে সম্পর্ক চ্যান্সেলর হিসেবে শলৎজের অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
একাত্তর/এসজে
