প্যারিসের একটি বিমানবন্দরে ১৮ বছর ধরে বসবাস করা ইরানি নাগরিক মেহরান করিমি নাসেরি মৃত্যুবরণ করেছেন।
রোববার (১৩ নভেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্যারিসের শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে বসবাস করেন নাসেরি। কূটনৈতিক জটিলতায় সেখানে আটকে ছিলেন তিনি।
বিবিসি জানিয়েছে, মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে সেখানে ফিরে যান তিনি। এরপর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
নাসেরির অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ২০০৪ সালে 'দ্য টার্মিনাল' চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন স্টিভেন স্পিলবার্গ। এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন মার্কিন অভিনেতা টম হ্যাঙ্কস ও ক্যাথরিন জেটা-জোনস।
১৯৪৫ সালে ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন মেহরান করিমি নাসেরি। নিজের মায়ের খোঁজে প্রথমে ইউরোপে যান তিনি। সঠিক কাগজপত্র না থাকায় প্রথমে যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়। এরপর কিছুদিন বেলজিয়ামে থাকার পর অবশেষে ফ্রান্সে গিয়ে তিনি শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে বাস করা শুরু করেন।
বিমানবন্দরের একটি বেঞ্চে নিজের জিনিসপত্র নিয়ে বসবাস করা শুরু করেন তিনি। তার দিন কাটত নোটবুকে নিজের জীবন সম্পর্কে লিখে এবং বইপত্র ও খবরের কাগজ পড়ে।
নাসেরির কথা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গের। পরে তিনি এ নিয়ে নির্মাণ করেন দ্য টার্মিনাল নামের একটি চলচ্চিত্র।
চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাওয়ার পর নাসেরির সাথে কথা বলতে বিমানবন্দরে ভিড় জমান সাংবাদিকরা। এক পর্যায়ে দিনে ছয়টি পর্যন্ত সাক্ষাৎকার দিতে হতো তাকে।
১৯৯৯ সালে তাকে শরণার্থীর মর্যাদা দিয়ে ফ্রান্সে বসবাসের অনুমতি দেয় সরকার। তবে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিমানবন্দরেই থেকে যান তিনি।
আরও পড়ুন: স্টিভ জবসের স্যান্ডেল নিলামে
এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে ফ্রান্সের একটি হোস্টেলে বাস করতেন তিনি।
তবে কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি বিমানবন্দরে ফিরে যান ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার কাছে কয়েক হাজার ইউরো পাওয়া যায়।
একাত্তর/এসজে
