বিয়েবহির্ভূত যৌন সম্পর্ককে নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস করেছে ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট। এ আইনের অধীনে দেশটিতে কেউ বিয়েবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কে জড়ালে তার সর্বোচ শাস্তি হবে এক বছরের কারাদণ্ড।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশীয়দের পাশাপাশি বিদেশিদের জন্যও প্রযোজ্য হওয়া বিতর্কিত এ দণ্ডবিধিতে প্রেসিডেন্ট ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অবমাননা এবং রাষ্ট্রীয় দর্শনের বিরুদ্ধাচরণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে এ আইনে শাস্তি তখনই কার্যকর হবে যখন কোনও পক্ষ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করবেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবাহিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের স্বামী বা স্ত্রীর অভিযোগ করার অধিকার থাকবে।
এছাড়াও অবিবাহিত ব্যক্তিদের অভিভাবক সন্তানের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে পারবেন। বিয়ের আগে একসাথে বসবাস নিষিদ্ধ করা হবে আইনে। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে ছয় মাসের কারাদণ্ড।
আইনটির বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভ করছেন অনেকে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী। এ আইনকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ আইনের ফলে ভ্রমণ ও বিনিয়োগের লক্ষ্যস্থল হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
দেশটির এমপ্লয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি চেয়ারপার্সন শিন্তা উইজাজা সুকামদানি বলেন, এই আইন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে আইনি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের ইন্দোনেশিয়ায় বিনিয়োগের ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
এর আগে ২০১৯ সালে এই আইন পাস করার উদ্যোগ নিয়েছিল দেশটির সরকার। তবে সেবার হাজার হাজার মানুষ এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় তাদের পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়।
তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ইন্দোনেশিয়ার কিছু কিছু অংশে এ ধরণের কঠোর আইনকানুন আগে থেকেই রয়েছে।
আরও পড়ুন: আলজাজিরা সাংবাদিকের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা
দেশটির আচেহ প্রদেশে কঠোর ইসলামী আইন পালন করা হয়। সেখানে জুয়া খেলা, মদপান ও বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে দেখা করার জন্য শাস্তি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।
২০২১ সালে সমকামী সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে দেশটিতে দুই ব্যক্তিকে জনসম্মুখে ৭৭টি করে দোররা মারা হয়।
একাত্তর/এসজে
