অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে আলজাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহর মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) একটি মামলা দায়ের করেছে আলজাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়েছে।
গত ১১ মে পশ্চিম তীরের জেনিন রিফিউজি শিবিরে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ২৫ বছর ধরে আলজাজিরায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা শিরিন আবু আকলেহ।
এ ঘটনার তদন্তের পর ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের কোনও এক সৈন্যের গুলিতে শিরিনের মৃত্যু হয়। তবে এ ঘটনাকে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করেছে তারা।
তবে এ দাবিকে অস্বীকার করে আলজাজিরা অভিযোগ করেছে, শিরিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ অভিযোগের ব্যাপারে ইসরাইলের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, 'ইসরাইলি সৈন্যদের বিরুদ্ধে কেউ তদন্ত করবে না এবং যুদ্ধে নৈতিকতা নিয়ে কেউ আমাদের উপদেশ দেবে না, বিশেষত আলজাজিরা'।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কর্তৃত্বকে স্বীকার করে না ইসরাইল। অধিকৃত অঞ্চলে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে আইসিসির আইনজীবীকে সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।
শিরিনকে যখন হত্যা করা হয় তখন তিনি 'প্রেস' লেখা জ্যাকেট পরিহিত ছিলেন। সেসময় আরও এক সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৬০০ ফুট দূর থেকে ইসরাইলি সৈন্যরা শিরিনের ওপর গুলি চালান। জাতিসংঘ ও একাধিক গণমাধ্যমের তদন্তে এ দাবিকে সমর্থন করা হয়েছে।
প্রথমে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছিল, শিরিনকে কে হত্যা করেছে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে সেপ্টেম্বরে তাদের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আইডিএফ-এর এক সৈন্য ভুলক্রমে শিরিনকে গুলি করেন।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার আরও একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা
তবে এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও ভিডিও ফুটেজসহ নতুন তথ্যপ্রমাণ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে আলজাজিরা।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, এসব প্রমাণ থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে শিরিন ও তার সহকর্মীদের ওপর ইসরাইলি অকুপেশন ফোর্স সরাসরি গুলি চালিয়েছিল। ভুলক্রমে ক্রসফায়ারে পড়ে শিরিনের মৃত্যু হয়েছে বলে ইসরাইল যে দাবি করেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
একাত্তর/এসজে
