ইরানের সন্ত্রাস-বিরোধী কমান্ডার লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানির আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, ‘নিশ্চিতভাবে’ জেনারেল সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেয়া হবে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, মঙ্গলবার জেনারেল সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানের স্থপতি ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এ প্রতিজ্ঞা করেন।
এরআগে ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন জেনারেল সোলাইমানি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বলছে, ওই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময়কার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওসহ যেসব সেনা কর্মকর্তা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের তালিকা তৈরি করেছে ইরান। তবে কিভাবে এ প্রতিশোধ নেয়া হবে তা স্পষ্ট করেনি তেহেরান।
এ প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানি জনগণ শহীদ সোলাইমানির রক্তের কথা কখনও ভুলে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও ভুলে যাবে না। তারা এ রক্তের বদলা নিশ্চিতভাবে নেবে এবং ওই হত্যকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী ও ঘাতকদের নিশ্চিন্তে ঘুমাতে দেবে না।
এসময় যুক্তরাষ্ট্রসহ ইরানের কথিত শত্রুদের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, জেনারেল সোলাইমানি যেভাবে তোমাদের অত্যাচার, নিপীড়ন, অত্যধিক চাহিদা, আধিপত্য ও অহংকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধ অক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তেমনিভাবে আমাদের যুবসমাজ শহীদ সোলাইমানির শাহাদাতের উদ্দীপনা থাকা পর্যন্ত তোমাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

আরও পড়ুন: পাহাড়ে ঘুমন্ত ম্রো’দের ঘরে আগুন, অভিযোগ রাবার মালিকের দিকে
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগও সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এবং ইসরাইল, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির মতো অন্যান্য দেশ থেকে আসা অপরাধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইরানের দাবি, এসব রাষ্ট্র সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেছে।
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে। ওই হামলায় ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটের সেকেন্ড ইন কমান্ড আবু মাহদি আল মুহান্দিসও নিহত হন।
একাত্তর/আরবিএস
