অবৈধ সীমান্ত ক্রসিংয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করার জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এই চুক্তির ফলে সীমান্তের উভয় পাশের কর্মকর্তারা এই ধরনের আশ্রয়প্রার্থীদের যেকোনো দিকে ফিরিয়ে দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অটোয়া সফরের সময় বাইডেন এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো চুক্তিটি ঘোষণা করবেন।
এই পদক্ষেপটি নিউইয়র্ক রাজ্য এবং কুইবেক প্রদেশের মধ্যে অবৈধ ক্রসিং রক্সহাম রোডে অভিবাসীদের আগমন সীমিত করার প্রচেষ্টার অংশ। চুক্তির একটি অংশ হিসাবে, কানাডা দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় নিপীড়ন ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ১৫ হাজার অভিবাসীদের জন্য একটি নতুন শরণার্থী প্রোগ্রাম তৈরি করবে।
ট্রুডোর সাথে অর্থনৈতিক, বাণিজ্য এবং অভিবাসন সমস্যা সম্পর্কে কথা বলার জন্য ২৪ ঘণ্টার সফরে কানাডার অটোয়াতে রয়েছেন বাইডেন। শুক্রবার তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে অভিবাসন চুক্তি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
চুক্তিটি দুই পক্ষের ২০০৪ সালের সেইফ থার্ড কান্ট্রি চুক্তির একটি সংশোধনী, যার জন্য অভিবাসীদের তাদের প্রথম "নিরাপদ" দেশে আশ্রয়ের দাবি করতে হবে, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডাই হোক না কেন।
নতুন ব্যবস্থা নিরাপদ থার্ড কান্ট্রি চুক্তির একটি ফাঁকফোকর বন্ধ করবে, যা কানাডাকে অনানুষ্ঠানিক ক্রসিং পয়েন্টে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের বিমুখ করতে বাধা দেয়।
এই ফাঁকফোকর অভিবাসীদের রক্সহাম রোডের মতো জায়গা থেকে কানাডায় প্রবেশ করতে পরিচালিত করছিল।
নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ গত মাসে জানায়, তারা অভিবাসীদের কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে ভ্রমণের জন্য বিনামূল্যে বাসের টিকিট দিচ্ছে।
নতুন মার্কিন-কানাডা সীমান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা কয়েক মাস ধরে স্থবির ছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা চুক্তিটি নিয়ে পুনরায় কাজ করতে চাননি বলে জানা গেছে, কারণ দেশটি মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে নিজস্ব অভিবাসী সংকটে জর্জরিত ছিল।
আরও পড়ুন: কৈশোরের বিচ্ছেদ নিয়ে নিউজিল্যান্ডে ৪০ মিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি
বাইডেন প্রশাসন মেক্সিকোর সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তাব করেছে। এর ফলে মে মাসে কোভিড সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ উঠে গেলে অভিবাসীদের আশ্রয় দাবি করা কঠিন হয়ে উঠবে। প্রস্তাবটি মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে।
নতুন মার্কিন-কানাডা চুক্তি দ্রুত কার্যকর হতে পারে কারণ এর জন্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। ট্রুডো যুক্তি দিয়েছেন যে, রক্সহাম রোডে অনিয়মিত সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করার একমাত্র উপায় হল সেইফ থার্ড কান্ট্রি চুক্তির পুনর্বিবেচনা করা।
একাত্তর/এসজে
