কোভিড-১৯ ভাইরাস সর্বপ্রথম কীভাবে মানুষে সংক্রমিত হয়েছিলো সে সম্পর্কে ‘সর্বোত্তম প্রমাণ’ পাওয়ার দাবি করেছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি, ভাইরাসটি মানুষের দেহে সংক্রমিত করতে ‘মধ্যবর্তী পোষক’ হিসেবে কাজ করেছিলো রেকুন নামের প্রাণী।
শনিবার (২৫ মার্চ) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে করা সাম্প্রতিক এই বিশ্লেষণ ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রাণী উত্স হিসাবে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতিকে নির্দেশ করে। এই উপসংহারটি প্রমাণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যা তিন বছর আগে প্রাথমিক প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রবিন্দু উহানের হুয়ানান ওয়াইল্ডলাইফ মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
গত ২০ মার্চ প্রকাশিত এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হুয়ানান বাজারের যেই স্থান থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় সারস কোভ-২ এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, সেই একই স্থানে বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণী রেকুনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা রেকুনের মাধ্যমে কোভিড ভাইরাস মানুষের দেহে স্থানান্তরিত হয়ে থাকতে পারে।
তবে বাজারটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রাদুর্ভাবের উৎসেরঅ নুসন্ধানে এখনও নিশ্চিত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই সমালোচনামূলক তথ্য প্রকাশে তিন বছরের বিলম্বকে কিছু বিজ্ঞানী ‘কলঙ্কজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
হুয়ানান বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ নমুনার সম্পূর্ণ জেনেটিক ক্রমগুলো লক্ষ্য করেছিলেন প্যারিসের ইকোলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক ড. ফ্লোরেন্স ডেবারে। তিনি এবং তার সহকর্মীরা ভাইরাসের সাথে একই স্থানে পাওয়া নমুনার সাথে কোন প্রজাতির মিল রয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাণী এবং ভাইরাস একসাথে খুঁজে পাই। এটি প্রমাণ করে না যে প্রাণীগুলো সংক্রামিত ছিল, তবে এটি আমরা যা দেখেছি তার সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা’।
এই গবেষণায় জড়িত সিডনি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এডি হোমসের মতে, এটি ভাইরাসের একটি প্রাণীজ উৎপত্তির ‘সর্বোত্তম সম্ভাব্য প্রমাণ’।
তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা কখনই সেই মধ্যবর্তী (প্রাণী) হোস্টকে খুঁজে পাব না- সেটি চলে গেছে। কিন্তু এটা অসাধারণ যে শুধুমাত্র সেখানে কোন প্রজাতি ছিল তা নয়, তারা বাজারে ঠিক কোথায় ছিল তাও জেনেটিক ডেটার মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া গেছে’।
তবে কোভিডের উৎস সম্পর্কে নির্দিষ্ট প্রমাণ হয়তো কখনোই খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই প্রমাণের অনুসন্ধান ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক এবং প্রায়শই বিষাক্ত একটি ব্যাপার উঠেছে। একটি তত্ত্ব বলে, ভাইরাসটি বন্য প্রাণীদের মধ্যে উদ্ভূত হয়েছিল এবং বাজারে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আরও পড়ুন: ক্লাসে ডেভিডের ভাস্কর্য দেখানোয় প্রিন্সিপাল চাকরিচ্যুত
অন্য একটি তত্ত্ব উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি থেকে একটি ভাইরাসের সম্ভাব্য ‘ল্যাব লিক’ এর উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। মহামারীর উত্স সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের কয়েক সপ্তাহ পরে সেই তত্ত্বটি আবারও জনপ্রিয়তা পায়।
অধ্যাপক হোমস বলেন, ‘বাজারের চারপাশে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল এবং এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি কেন- মূল প্রাণীগুলো সেখানে ছিল। এটি ল্যাবটির আশেপাশে শুরু হয়নি, যা বাজার থেকে ৩০ কিমি দূরে অবস্থিত। এবং ল্যাবরেটরির আশেপাশে কোনো প্রাথমিক সংক্রমণের তথ্যও পাওয়া যায়নি’।
একাত্তর/এসজে
