রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার দায়ে এবার রাশিয়াতেই নিষিদ্ধ হতে চলেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। শনিবার (২৫ মার্চ) দেশটিতে আইসিসির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন খোদ রুশ পার্লামেন্টের স্পিকার।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আইসিসির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিতে চলেছে পুতিন মিত্ররা।
পুতিন মিত্র ব্যাচেস্লাভ ভোলোডিন এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেছেন বলেছেন, রাশিয়ায় আইসিসির যেকোনো কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করার জন্য এবং আইসিসিকে "সহায়তা ও সমর্থন" প্রদানকারীকে শাস্তি দেয়ার জন্য রাশিয়ান আইন সংশোধন করা উচিত।
ভোলোডিন আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের হেগের আদালতে বিচার না করার জন্য আইন প্রণয়ন করেছে এবং রাশিয়ারও একই কাজ করা উচিত।
তিনি বলেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে আইসিসির জন্য কোনো সহায়তা বা সমর্থন আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য হওয়া উচিত।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে, ইউক্রেন থেকে শিশুদের অবৈধভাবে বিতাড়িত করার দায়ে পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। তবে আইসিসির এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে অর্থহীন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ক্রেমলিন।
রুশ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়ার সর্বোচ্চ নেতা পুতিনকে গ্রেপ্তার করার যেকোনো প্রচেষ্টা বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার সমান হবে।
আরও পড়ুন: টর্নেডোর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড মিসিসিপি, কেড়েছে ২৩ প্রাণ
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ পুতিনের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
রাশিয়ার অভিযোগ, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা একটি পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত, যা রাশিয়ার কাছে অর্থহীন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই আদালত সাধারণত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ইত্যাদি অপরাধের জন্য দায়িদের অভিযুক্ত করে থাকে। তবে রাশিয়া, চীন, ভারত ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেও এ আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি।
একাত্তর/আরবিএস
