রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জরুরী এবং টেকসই সমাধান চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। একই সঙ্গে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করে, তা সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি। এছাড়াও, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাকর প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। জাতিসংঘের একটি উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা সংকটটি এমনিতে অনেকদিনে পুরানো। তার উপর ২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।
রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশ প্রশংসিত হলেও, সংকট সমাধানে এখনো কার্যকর কোন উপায় বের করতে পারেনি জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতারা। রোহিঙ্গা সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে বাংলাদেশ সবসময়ই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার আহবান জানিয়ে আসছে।
গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় আবারো এ নিয়ে জরুরী উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে, কানাডা, সৌদি আরব ও তুরস্কের স্থায়ী মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ যৌথভাবে ভার্চুয়াল এই ইভেন্টটির আয়োজন করে। নিউইয়র্ক সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে প্রধান বক্তা ছিলেন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা আলোচনা অনুষ্ঠানটির সূচনা করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকি তার বক্তব্যে, রোহিঙ্গা সংসট সমাধানে পদক্ষেপ জোড়ালো করার কথা বলেন। ভাষাণচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নব্যসৃষ্ট আবাসন সুবিধার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই আবাসন ব্যবস্থা জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সন্তুষ্ট করেছে।
এছাড়াও, রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে অন্য আলোচকরাও তাদের সমর্থনের কথা জানান।
একাত্তর/ এনএ
