যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের ৯৫ শতাংশ বিবদমান পক্ষগুলোর দখলে আছে। এরমধ্যে সৌদি সমর্থিত সরকারের দখলে ৫৫ শতাংশ। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দখলে ২০ শতাংশ। ইরান-সৌদি সম্পর্ক পুনস্থাপনের পর ইয়েমেনেও বইছে শান্তির বাতাস। সংঘাত বন্ধ চাচ্ছে সব পক্ষ। দেশটির তথ্যমন্ত্রী জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠায় এমন অনুকূল পরিবেশ কখনোই আসেনি।
ইয়েমেনের পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার অঞ্চল বিবদমান পক্ষগুলোর হাতে। যার মধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সৌদি সমর্থিত সরকার, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী, সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা রয়েছে।
সরকারের দখলে ৫৫ শতাংশ ভূমি। হাধারদামাউত যেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক, উপকূলীয় অঞ্চল,পর্যটন শহর রয়েছে। তেলসমৃদ্ধ, বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশটি। দ্বিতীয় বৃহত্তর আল মাহরাহও সরকারের দখলে। সেন্ট্রাল মারিবে রয়েছে জ্বালানির খনি। যা নিয়ে হুতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব।
ওই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয়। মাহিজের অধিকাংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। আংশিক নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। ধালে এবং তিয়াজ প্রদেশের বেশিভাগ নিয়ন্ত্রণও সরকারের হাতে। আর রাজধানী সানাসহ হুতিদের দখলে ২৫ শতাংশ।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানী দখল করে তারা। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সব প্রতিষ্ঠান সানায়। অসংখ্য কোম্পানি, ফ্যাক্টরি থেকে অর্থ পায় হুতিরা। ধামার, আল বায়দা, ইব, রায়মাহ, আল মাহউইত, আমরান প্রদেশের পূর্ণ দখল বিদ্রোহীদের হাতে।
কৌশলগত বন্দরনগরী হুদায়দাসহ কয়েকটি প্রদেশের আংশিক নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে। হুদায়দা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, যা দিয়ে রপ্তানির ৭০ শতাংশ এবং বিদেশি সহায়তা পৌঁছায়। সরকারি বাহিনী এ প্রদেশের আল খাওখাহ এবং হায়সসহ কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।
সাউদার্ন ট্রান্সজিশনাল কাউন্সিল-এসটিসি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত। দখলে ২০ শতাংশ ভূমি। অস্থায়ী রাজধানী এডেনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। দক্ষিণ ইয়েমেনকে উত্তর ইয়েমেন থেকে আলাদা করতে চায় তারা। সানার পরই এডেন গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ইকুয়েডরে জেলখানায় সংঘর্ষে ১২ কারাবন্দী নিহত
কৌশলগত সোকোট্রার প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ এসটিসির দখলে। শাবওয়াহও তাদের দখলে। যেখানে বালহাফ প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র। ইয়েমেনের অর্থনীতি, এলএনজি রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। আবয়ান, ধালে, লাহিজ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে সাউদার্ন কাউন্সিল।
২০১৮ সালে জাতিসংঘ জানায়, ২০১৪ সাল থেকে চলা ত্রিপক্ষীয় লড়াইয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ নিহত। দুর্ভিক্ষে মারা গেছে প্রায় তিন লাখ। স্মরণকালের ভয়াবহ সংকটে ইয়েমেন। এ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান-সৌদি সম্পর্ক উন্নয়ন, তারপরই ওমানের মধ্যস্থতায় হুতি-সৌদি বৈঠক শুরু হয়। ইতিমধ্যে দু'পক্ষের ৯০০ বন্দি বিনিময় হয়েছে। সংঘাত ভুলে শান্তি চায় সবপক্ষই।
একাত্তর/এসজে
