ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ বলতেই চোখের সামনে ভেসে আসে আনন্দময় একটা দিনের ছবি। কিন্তু সারা বিশ্বেই কি একইভাবে পালিত হয় ঈদ? অঞ্চলভেদে, স্থানভেদে ঈদ পালনেও আছে বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা।

তুরস্ক: সাংস্কৃতিক প্রাচুর্য্য ও ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ তুরস্কে অত্যন্ত জমকালোভাবে ঈদ উদযাপন হয়ে থাকে। সেকের বায়রামি আমরা যাকে ঈদ বলি তুর্কিরা তাকে এই নামেই চেনে। যার আক্ষরিক অনুবাদ হলো মিষ্টির অনুষ্ঠান। মূলত ঈদ মোবারক বলার সঙ্গে সঙ্গে সবার জীবন ভরে উঠুক মিষ্টি উষ্ণতায়, এই কামনাই করা হয়। ঈদের সব নিয়ম মেনে ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি তুর্কি জনগোষ্ঠী আয়োজন করে সামাজিক মিলনমেলার।

সৌদি আরব: সালামির সংস্কৃতি আছে সৌদি আরবেও।খাওয়ারের আগেই ছোটরা সবাই মিলে বড়দের থেকে ঈদি নিয়ে মেতে ওঠে ঈদের উৎসবে। এ ছাড়া প্রতিটি বাড়ি ও শহরকে বাতি ও ফানুসে সাজানো হয় উৎসবমুখর করে। এসব বাতি যেন জ্বেলে দেয় উৎসবের নতুন প্রাণ।

মিশর: ঈদ উদযাপনে মিশর যেন অন্যদের চেয়ে এক কাঠি উপরে রয়েছে। এখানে ঈদ পালন করা হয় টানা চার দিন ব্যাপী। আর এই পুরো সময়টা জুড়ে উৎসবের প্রাণ হয়ে থাকে মজাদার সব মাছের আয়োজন। পিরামিডের শহর মিশরের অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো ফাতা যা ভাত, মাংস, পেঁয়াজ, ভিনেগার সবকিছুর মিশ্রণে রান্না করা হয়।

আফগানিস্তান: ঈদের দিনে আফগানরা অতিথিদের খেতে দেন 'জালেবি' নামের এক বিশেষ খাবার। আর ‘তখম জাঙ্গি’ আফগানদের ঈদ উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেখানে পুরুষেরা ফাঁকা ময়দানে একত্রিত হয়ে একজন আরেকজনের দিক সিদ্ধ ডিম ছোড়ে।

ইন্দোনেশিয়া: বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। ঈদের দিনকে ইন্দোনেশিয়ায় বলা হয় হারি রায়া ঈদুল ফিতরি। ঈদের এই বিশেষ দিনটিতে নারীরা পরে কেবায়া কুরঙ্গ আর পুরুষরা পরে 'বাজু কোকো যা সে দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।

বাংলাদেশের মতো চাঁদরাতেই নানা আয়োজন থাকে প্রতিবেশি দেশ ভারত ও পাকিস্তানেও। ঈদের আগের রাতকে তারাও ‘চাঁদ রাত’ হিসেবে পালন করে। মেয়েরা দুই হাত ভরে মেহেদি লাগিয়ে বরণ করে নেয় ঈদের চাঁদকে।

এভাবেই বিশ্বের নানা প্রান্তে, নানা রীতিতে সবাই মেতে ওঠে ঈদের আনন্দে ।
একাত্তর/এসি
